ঢালিউড
ছবি পাড়ার
ঈদ
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৪৫
আর ক’দিন বাদেই পবিত্র ঈদুল আজহা। সে হাওয়ার কিছুটা হলেও লেগেছে ছবি পাড়ায়। আসছে ঈদে মুক্তির মিছিলে রয়েছে চারটি ছবি। ইতোমধ্যেই চলচ্চিত্রগুলোর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, হল মালিক ও বুকিং এজেন্টদের পদচারণায় চাঞ্চল্য এসেছে এফডিসি থেকে শুরু করে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনে। চলছে ঈদের ছবি নিয়ে আলোচনা, ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ। ছবি পাড়ায় ঈদ নিয়ে লিখেছেন রুদ্র মাহফুজ
ঈদ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চারটি নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এগুলো হলো মালেক আফসারীর ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’, সাফিউদ্দিন সাফির ‘পূণ্যদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’, রকিবুল আলম রকিবের ‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান’ ও শাহ মোহাম্মদ সংগ্রামের ‘কী প্রেম দেখাইলা’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক তিনটিতেই আছেন শাকিব খান। গত রোজার ঈদের মতো এ ঈদেও বড় পর্দায় তারই দাপট। গেল সাত বছর ধরে ঈদ মানেই যেন শাকিব খান। আর তাই এ নিয়ে খুব একটা মাথাও ঘামান না তিনি। তবে নিজের অবস্থানটা আরও মজবুত করার ইচ্ছাটা কিছুটা হলেও থেকেই যায়। আর এজন্য ঈদে অন্তত নিজের সেরা ছবিগুলো মুক্তির বিষয়ে নজর রাখেন শাকিব। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদে আমার মুক্তি পেতে যাওয়া ছবিগুলো অবশ্যই অন্য ছবিগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকবে, সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। মালেক আফসারীর ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ ছবিটি অ্যাকশন নির্ভর, সাফিউদ্দীন সাফির ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’ রোমান্টিক, আবার রাকিবুল আলম রাকিবের ‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান’ ছবিটি অ্যাকশন-রোমান্টিক ঘরানার, মানে তিনটি ছবির গল্প এবং কাহিনীর দিক থেকে তিন রকমের ভিন্নতা রয়েছে, তা ইতোমধ্যেই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ছবিগুলোতে আমার বিপরীতে ভিন্ন ভিন্ন অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। একটিতে অপু বিশ্বাস, অন্যটিতে জয়া আহসান ও পরেরটিতে ববি। আশা করছি, এবারও আমি আমার অবস্থান ধরে রাখতে পারব।’ ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘পূণ্যদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’র নায়িকা জয়ার প্রথমবারের মতো কোনো ছবি ঈদে মুক্তি পাচ্ছে। অবশ্য এ নিয়ে তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এ অভিনেত্রীর। তবে ছবি মুক্তি নিয়ে জয়ার মাথাব্যথা না থাকলেও জয়া ভক্তদের কিন্তু যথেষ্ট আগ্রহ আছে ছবিটি নিয়ে। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি বলতে যা বোঝায়, তার সব উপকরণ আছে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’তে। গল্প, গান, লোকেশন—সব কিছুই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানবে বলে ছবির পরিচালক সাফিউদ্দিন মনে করেন। জয়া বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছি। সঙ্গে রয়েছেন আরেফিন শুভ। ত্রিভুজ প্রেমের এ ছবিটি এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ আলোচিত। আশা করছি, ‘চোরাবালি’র পর সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’ অন্যদিকে কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি না পেলেও গত দুই বছর ধরে আরেফিন শুভ সব সময়ই ছিলেন ছবিপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার অভিনয়, শারীরিক গঠন—সব মিলিয়ে দর্শকদের কাছে এখন তিনি ক্রেজে পরিণত হয়েছেন। এ বছর শুভর জন্য সবচেয়ে সফল বছর হিসেবে ধরা দিতে পারত। কিন্তু হঠাত্ অস্ত্রোপচার তাকে খানিকটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। অবশ্য দর্শকদের মধ্যে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং দর্শকরা অধীর আগ্রহে বসে আছেন শুভ অভিনীত ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’ ছবিটি দেখার জন্য। চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ারা, সোহেল রানা, সুব্রত, দিতি, সাজু খাদেম, মিমো প্রমুখ। এদিকে ছবির একাধিক গান ইতোমধ্যে দর্শকরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন বলে এর প্রতি আকর্ষণও বেশি। ছবির সব ক’টি গান লিখেছেন কবির বকুল, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শওকত আলী ইমন।
‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান’ ছবিটি নিয়ে শাকিব খানের মতো আত্মবিশ্বাসী অপু বিশ্বাসও। গত ঈদে শাকিবের বিপরীতে তার অভিনীত ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিটি ব্যবসায়িক বিবেচনায় এক নম্বরে ছিল। এবারও এর ব্যতিক্রম দেখতে চান না অপু। আর তাই রাকিবুল আলম রাকিবের ‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান’ ছবিটিকে বাজি হিসেবে ধরতে চেয়েছেন তিনি। অপু বলেন, ‘আমি আমার হারানো অবস্থান ফিরে পেয়েছি ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিটি দিয়ে। আশা করছি, এবার ‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান’ দিয়ে সেই অবস্থান আরও দৃঢ় করব। ব্যয়বহুল এই ছবিটির অধিকাংশ চিত্রায়ন হয়েছে সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের মনোরম লোকেশনে। আমার মতে, ছবির গান, গল্প, আমার চরিত্র সবই আকর্ষণীয়। এখন বাকিটা দর্শকদের ওপর।’ ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন ববিতা, কাজী হায়াত্, মিশা সওদাগর, ডন, কাবিলা, শাহনূর, নাসরিন প্রমুখ। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা ও আলী আকরাম শুভ।
এবারই প্রথম ঈদে ববি অভিনীত চলচ্চিত্র ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এর আগে ‘দেহরক্ষী’ দিয়েই বাজিমাত করেছেন ববি। এরপর আর ছবি মুক্তি না পেলেও পেছনে ফিরতে হয়নি হালের ক্রেজ এই নায়িকাকে। ঈদের মুক্তি পেতে যাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে আছেন শাকিব খান। এরই মধ্যে ছবিটি নিয়ে ছবিপাড়ায় বেশ সরগরম হয়েছে। মাতামাতি হচ্ছে ববিকে নিয়েও। এই প্রসঙ্গে ববি বলেন, ‘ছবিটি ঈদে এক নম্বর ব্যবসা করবে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। এতে যেমন গল্প আছে, তেমনি আছে অ্যাকশন-গান। একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদননির্ভর ছবিতে যা যা উপাদান দরকার, তার সবই পরিচালক মালেক আফসারীর এ ছবিতে রেখেছেন। আশা করছি, ছবিটি মুক্তির পর আমি আমার অবস্থান আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারব।’
এদিকে শাকিবের তিন ছবির বিপরীতে একা লড়তে হবে বাপ্পি চৌধুরীকে। ঈদে এটিই বাপ্পির প্রথম ছবি। একের পর এক ব্যবসা সফল ছবি উপহার দেওয়া বাপ্পির ভাগ্যে এবার কী আছে সেটিও দেখার ব্যাপার। ছবিতে তার বিপরীতে আছেন আঁচল। এই জুটির তৃতীয় ছবি ‘কী প্রেম দেখাইলা’। নতুনদের মধ্যে বাপ্পী চৌধুরীর এখনও ঈদে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। ফলে এক ধরনের অতৃপ্তি ছিল। এবার সেই অতৃপ্তির পালা শেষ হতে যাচ্ছে শাহ মোহাম্মদ সংগ্রামের ‘কি প্রেম দেখাইলা’ ছবিটির ঈদে মুক্তির মধ্যে দিয়ে। রোমান্টিক এ ছবিটি নিয়ে আশাবাদী বাপ্পী। তিনি বলেন, ‘দর্শক আমার রোমান্টিক ছবি দেখে অভ্যস্ত। এ ছবিতে দর্শকের ভালো লাগার মতো সব উপকরণই আছে। আমার বিশ্বাস, এবারও আমি সফলতা পাব।’ একইভাবে ঈদে এই প্রথম মুক্তি পাচ্ছে আঁচলের কোনো ছবি। ‘কি প্রেম দেখাইলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আঁচল এবার দর্শকেদের সামনে আসতে পারছেন। তিনি বলেন, ‘ছবিটিতে আমার বিপরীতে আছেন বাপ্পী। তার সঙ্গে আমার প্রথম ছবি ‘জটিল প্রেম’ ব্যবসা সফল হয়েছিল। আশা করছি, এবারও ব্যতিক্রম হবে না। আমার বিশ্বাস চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে আমি দর্শকের কাছাকাছি জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারব।’ ছবিটিতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা ও আলীরাজ।
বি শে ষ স ং খ্যা প্যা নে ল
সার্বিক তত্ত্বাবধানে
আশিস সৈকত
সমম্বয় ও শিল্প নির্দেশনা
মোহাম্মদ মোর্শেদ নাসের
বিষয় সমন্বয়
খালেদ আহমেদ
আয়োজন সহযোগিতায়
রুদ্র মাহফুজ
মুহম্মদ কবীর
প্রাঞ্জল সেলিম
রিয়াদ খন্দকার
দীপঙ্কর দীপু
গ্রাফিক্স ডিজাইন
মোস্তাফিজুর রহমান
গ্রাফিক্স সহযোগিতায়
দিলীপ কুমার হালদার