কসবার কোল্লাপাথর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সমাধিস্থল
আন্তর্জাতিক মানের শহীদ স্মৃতি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের দাবি
নেপাল চন্দ্র সাহা, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মহান মুক্তিযুদ্ধের পাদপীঠ সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোল্লাপাথরে ৪৯ জন বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এদিকে কোল্লাপাথর শহীদ স্মৃতি পর্যটন কেন্দ বাস্তবায়ন পরিষদ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঐতিহাসিক পবিত্র সমাধিস্থল কোল্লাপাথরকে আন্তর্জাতিকমানের শহীদ স্মৃতি পর্যটন কেন্দ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানান। স্বাধীনতা যুদ্ধের বহু স্মৃতিবিজড়িত এলাকা কসবা উপজেলা। যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে কসবার গাছ-গাছালি, ইমারত, সেতু ও রেল লাইন। খালি হয়েছে শত শত মায়ের বুক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী রেল স্টেশন সালদা নদী। সেখান থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বালুকাময় পথ রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে যাবার পর দেখা যায় টিলার উপর একটি তোরণ, যার গায়ে লেখা আছে ‘শহীদ সরণী’। এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছে ৪৯ জন স্বাধীনতাকামী মুক্তিপাগল বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে কোল্লাপাথর ২নং সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্ণেল এম.এ গাফফার। তাঁর অধীনে ২নং সেক্টরে যারা যুদ্ধ করেছেন এদেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন উত্সর্গ করে গেছেন, তেমনি ৪৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছোট্ট গ্রাম কোল্লাপাথরের একটি ছোট্ট টিলায় চিরদিনের মত শায়িত আছেন। আরো শায়িত আছেন লক্ষ্মীপুরে ১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। কোল্লাপাথর গ্রামের আবদুল করিমের বাবা আবদুল মান্নান ৬৫ শতাংশ জায়গা মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের জন্য দান করেন। ৪৯ জনসহ অগণিত মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ কোল্লাপাথরের এই টিলার উপর কবরস্থ করা হয়।