কী করে এলো
অলিম্পিক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২০:১৩
চার বছরের অপেক্ষার পর এ বছর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে খ্যাত অলিম্পিক। অলিম্পিক নামের এই ক্রীড়া আসরটির সঙ্গে যেমন জড়িয়ে রয়েছে হাজার বছরের ঐিতিহ্য তেমনি প্রতিনিয়ত এর সঙ্গে যোগ ঘটছে আধুনিক নানা অনুসঙ্গেরও। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে ৭৭৬ খৃষ্টপূর্বাব্দে গ্রিসের অলিম্পিয়ায় একটা খেলাধুলার উত্সব হতো। এই উত্সবটিতে শুধুমাত্র মুক্ত মানুষদের (যারা দাস নয়) নিয়ে আয়োজন করা হতো স্টাডে বা ফুট রেস নামের একটি দৌড় প্রতিযোগিতা। একটানা ৩৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। তাই এ যুগের অর্থাত্ আধুনিক অলিম্পিকের পথ চলার শুরুটা ধরা হয় ১৮৯৬ সাল থেকে। এক অর্থে মরে যাওয়া খেলাধুলার ছোট্ট একটি আয়োজনকে যে ১৫০৩ বছর পর বাঁচিয়ে তুলে নতুন রুপ দেওয়া হলো তার মূল কৃতিত্ব ব্যারন পিয়েরে দা কুবার্তিন নামের এক ভদ্রলোকের। ফরাসী এই ভদ্রলোকের প্রস্তাবে অন্যরা সায় দিয়ে এগিয়ে আসাতেই ১৮৯৬ সালে বসেছিল আধুনিক অলিম্পিকের প্রথম আসর। আর এই আসর থেকেই যেন সত্যিকারের সার্বজনীন রূপটি লাভ করে অলিম্পিক। আগে যেখানে অলিম্পিক মানে ছিল শুধুই অভিজাত কিছু মানুষের একটি খেলা আর ধর্মীয় বোধের প্রকাশ সেখানে পিয়েরে দ্য কুবার্তিন একে করে তুলেছিলেন সত্যিকারের ক্রীড়া আয়োজন। তিনিই প্রথম অলিম্পিকে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ ও একাধিক খেলা প্রবর্তনের ধারণা যোগ করেন। ১৮৯৬ সালের প্রথম অলিম্পিকে মেয়েদের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকলেও এর ঠিক চার বছর পর অর্থাত্ ১৯০০ সাল থেকেই তা শুরু হয়। তাছাড়া প্রাচীণ অলিম্পিকে যেখানে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হতো জলপাই গাছের ডাল সেখানে বিজয়ীদের জন্য পদকের প্রচলণও ঘটে আধুনিক অলিম্পিকের হাত ধরেই। আধুনিক অলিম্পিকে কোনো প্রতিযোগিতার তিন সেরাকে সোনা, রুপা আর ব্রোঞ্জ দেওয়া শুরু হয় ১৯০৮ সালের আসর থেকে। এর আগে ১৮৯৬, ১৯০০ আর ১৯০৪ সালেও পদক দেয়া হয়েছে, তবে শুধু রুপা আর ব্রোঞ্জ। প্রথম হলে রুপা আর দ্বিতীয় হলে ব্রোঞ্জ। তখন তৃতীয় হলে জুটতো শুধু প্রশংসা আর হাততালি! আর আধুনিক অলিম্পিকে আমরা যে অলিম্পিক ফ্ল্যাগ ও অলিম্পিক রিং বা অলিম্পিকের পাঁচটি বৃত্ত আমরা দেখি সেটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯২০ সাল থেকে।