বিসিবি সভাপতি হয়েই পাপনের ঘোষণা
তিন মাসের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৩
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রথম নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে নাজমুল হাসান পাপন এমপি জানালেন অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব পালনকালে অনেক কিছুই পরিকল্পনা অনুসারে করতে পারেননি। এখন নির্বাচিত হওয়ায় কাজে অনেক গতি আসবে বলে তার বিশ্বাস।
তিনিই যে বিসিবির নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন সেটা আগে থেকেই জানা ছিল। কারণ এবারের বিসিবি নির্বাচনে বিরোধী কোন পক্ষ ছিল না। তাই পাপনের নির্বাচিত হতে বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় পাপন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পৌঁছার আগেই তার শুভাকাঙ্ক্ষিদের ভিড়ে সেখানে পা ফেলার জায়গা ছিল না। বাদ্য বাজিয়ে পরিবেশ সুরেলা করে তুলেছিলেন বাদকরা। ফুলের মালা আর মিষ্টির প্যাকেট এনে রাখা হয়েছিল। পাপনকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়া হয় হল রুমে। নির্বাচিত পরিচালক আকরাম খান, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাহমুদ সুজন, মঞ্জুর কাদের, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, মাহবুব আনাম, ববি, জালাল ইউনুসরা পালাক্রমে এনএসসির সম্মেলন কক্ষে চেয়ার নিলেন।
নির্বাচন কমিশন বিসিবির সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করলে পাপনকে সভাপতি নির্বাচিত করার জন্য প্রথম প্রস্তাবটি দেন পরিচালক আ জ ম নাছির উদ্দিন। তার পক্ষে মাহবুব আনামও দ্বিতীয়বার প্রস্তাব দিলে মঞ্জুর কাদের দু’জনের পক্ষে সমর্থন দেন। নির্বাচন কমিশন আর কারো মতামত আছে কিনা জানতে চাইলে উপস্থিত সব পরিচালক দাঁড়িয়ে হাত উঁচিয়ে কণ্ঠ ভোটে সমর্থন দিলে পাপনকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ফুলে সিক্ত হন সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য। শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে গিয়ে সভাপতির সাথে বুক মেলান জালাল ইউনুস, মাহবুব আনামসহ অনেকে। অন্যদিকে শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ। সভাপতিকে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে শ্লোগান দিচ্ছিলেন ভক্তরা। সভাপতির সাথে হাত মেলানোর প্রতিযোগিতায় শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। পরিস্থিতি সামাল দেন জালাল ইউনুস।
পাপন বলেন, ‘কে সভাপতি হবেন সেটা মুখ্য ছিল না। সময় মতো নির্বাচনটা শেষ করাই ছিল মুখ্য। বিসিবির সভাপতি আগেও ছিল। এখন হয়েছে। আগামীতেও হবে। নির্বাচনটা সুষুম সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়াটাই জরুরি ছিল। কারণ অনেক বাধা ছিল নির্বাচন নিয়ে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি সমস্ত বিপদ-আপদ বাধা-বিপত্তি পার করে বাংলাদেশ মুখ উঁচু করে আইসিসির সভায় অংশগ্রহণ করতে পারছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি এতো দিন যে কথাটা প্রকাশ করিনি আজকে বলছি, আসলে ১৭ অক্টোবর ছিল আইসিসির বেঁধে দেয়া নির্বাচনের শেষ সময়। আইসিসির সভায় উঠবে কোন দেশ আইসিসির নির্দেশ মানলো আর কে মানলো না এটা নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করব। আইসিসির সভায় ভেন্যুর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কাজেই বিসিবির নির্বাচনটা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিসিবির ২৬ জনের পরিচালক পর্ষদে অভিজ্ঞ এবং নতুন মুখও রয়েছেন। আছেন তিন সাবেক তারকা খেলোয়াড়। নতুন এবং পুরাতনদের নিয়ে কাজ করতে চান সভাপতি পাপন।
কোন পথে হাঁটলে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নতির পথে যাবে জানতে চাইলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা পরিকল্পনা নির্ধারণ করব। উন্নতি করতে হলে কি কি করতে হবে। সেই পরিকল্পনা করে ফেলতে পারলে বাস্তবায়নের কাজটাও শুরু করতে পারব। তার জন্য যাকে যেখানে প্রয়োজন, তাকে সেখানেই কাজে লাগানো হবে এবং আমরা সবাই তাকে সহযোগিতা করব। আর এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আমাদের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন পূরণের প্রতিজ্ঞা।’
ক্রিকেট পরিচালনায় অনেকের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরির সহযোগিতা নেবেন কিনা জানতে চাইল পাপন হ্যঁ সূচক জবাব দেন।