বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বহুমুখী সুযোগ কৃষিতে

বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় কালের বিবর্তনে দিন যতই এগিয়ে যাচ্ছে কর্মমুখী পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ততই বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এ আগ্রহ রয়েছে অভিভাবকদেরও। সাধারণ শিক্ষার পরিশ্রম, একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও যথার্থ অনুশীলনের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষায় রয়েছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্র। আর বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী পড়াশোনার মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়ার রয়েছে যথেষ্ট সুযোগ। বাংলাদেশে তিন ধরনের গবেষণাধর্মী কর্মমুখী শিক্ষার মধ্যে রয়েছে মেডিক্যাল, প্রকৌশল ও কৃষি বিজ্ঞান । বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের এ সুযোগটা একেবারেই কম। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও ঝুকে পড়ছেন। মেডিক্যাল বা প্রকৌশলের ভর্তি যুদ্ধে হেরে যাওয়া শিক্ষার্থীরাই জীবন গড়ার লক্ষ্যে এবং পড়াশোনা শেষে চাকরিটাকে নিশ্চিত করতে বেছে নিচ্ছেন এগ্রিকালচার বা কৃষিকে। ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় এইচএসসির পরই। এইচএসসির পরে কে কোথায় পড়বে তার উপর নির্ভর করে তার ভবিষ্যত্ পেশা। কর্মক্ষেত্রকে লক্ষ্য করেই শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। নিজ এবং পরিবারের ইচ্ছাতেই শিক্ষার্থীরা ভাগ হয়ে ছুটে যায় ভর্তি সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। পেশা হিসেবে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে চিকিত্সক ও প্রকৌশলী পেশার পরেই স্থান কৃষিবিদ। তাই কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ের উপর উচ্চতর ডিগ্রির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। কারণ এই ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বেকার থাকতে হয় না। রয়েছে চাকরির ক্ষেত্র। রয়েছে গবেষণা ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ। দেশে মোট ৫টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ মোট ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ের উপর উচ্চতর ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হচ্ছে। এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এছাড়া অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি থেকেও কৃষি সংক্রান্ত বিষয় পড়ানো হচ্ছে। অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবুল হোসেন শিকদার বলেন, কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া শিক্ষার্থীদের দেশের এবং দেশের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কদর বেশি। কৃষি নির্ভর আমাদের অর্থনীতির বিবেচনায় দেশে কৃষিবিদ আরো বেশি প্রয়োজন। এ বিষয়টি বিবেচনা করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার কোর্স চালু করবে । মেডিক্যালে পড়লেই যে জীবন ধন্য এমন ধারণাকে ভুল দাবি করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। এইচএসসি উত্তীর্ণ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ না পেলে শিক্ষার্থীকে ভাবতে হবে এমন এক বিষয়ে তাকে উচ্চ শিক্ষা নিতে হবে যাতে বেকার না থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে এগ্রিকালচার অনেক দূর এগিয়ে । সরকারি চাকরির ক্ষেত্র : কৃষিতে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (বিসিএস) সাধারণ ক্যাডার ছাড়াও কৃষি ক্যাডার এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভিন্ন গবেষণা ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিবিদ নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা কৃষিবিদদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র : সরকারি চাকরির পাশাপাশি কৃষিবিদদের জন্য অন্যান্য ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা রকমের কাজের সুযোগ। এনজিও এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষিক্ষেত্রে কাজের পরিধি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোতে রয়েছে কৃষিবিদদের যথেষ্ট চাহিদা। এছাড়াও রয়েছে বেসরকারি পেস্টিসাইড ও ইনসেক্টিসাইড কোম্পানিগুলোতে কাজের ক্ষেত্র। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কৃষিবিদদের অগ্রাধিকার রয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ : দেশ ছাড়াও কৃষিবিদদের বিদেশে রয়েছে উচ্চশিক্ষার বিশাল সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, জার্মান, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারতে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থী গমন করে থাকেন ।