কণ্ঠশিল্পী রুমি কারাগারে

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে কণ্ঠশিল্পী আরফিন রুমিকে। প্রথম স্ত্রী লামিয়া ইসলাম অনন্যার দায়ের করা মামলায় গতকাল দুপুরে রুমিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এর আগে শনিবার ভোরে রুমিকে তার মোহাম্মদপুরের কাঁটাসুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। মামলার অন্য আসামি রুমির মা নাসিমা বেগম রোজি এবং ভাই ইয়াসিন রনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক। ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী, শাশুড়ি এবং ভাসুরের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন অনন্যা। গত বছরের অক্টোবরে নিউইয়র্ক প্রবাসী কামরুন নেসাকে বিয়ে করেন রুমি। এসময় তিনি দাবি করেন প্রথম স্ত্রী অনন্যার অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়ে ব্যাপক সমালোচিতও হন রুমি। রুমির প্রথম স্ত্রী অনন্যার ঘরে আরিয়ান নামের আড়াই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। মামলার এজাহারে অনন্যা উল্লেখ করেছেন, ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য বিয়ের পর থেকে তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করে আসছিলেন রুমি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকেও বের করে দেয়া হয়। শুক্রবারও তাকে কাঁটাসুরের কাদিরাবাদ হাউজিংয়ের বাসায় বেধড়ক মারপিট করেন আরফিন রুমি। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নেন। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক জানান, শুক্রবার রাতে লামিয়া ইসলাম অনন্যা তার স্বামী রুমি, শাশুড়ি এবং ভাসুরের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তারই প্রেক্ষিতে শনিবার ভোরে রুমিকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আদালত সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে রুমিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে রুমির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।