চট্টগ্রামবাসীকে ঈদ উপহার বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবার নৌকা মার্কায় আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিগত ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছিল তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেগুলোর কাজ শুরু করেছে। সরকার ইতিমধ্যে ষষ্ঠ পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সপ্তম পরিকল্পনা গ্রহণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি সুধী সমাবেশ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ১০টিসহ ২৯টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এছাড়া বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার, প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও ক্যান্টনমেন্টে একটি কমপ্লেক্সসহ মোট ৩২টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছে প্রথমে চট্টগ্রামের সিডিএ নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার আগে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার উদ্বোধন চট্টগ্রামবাসীর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার। তিনি বলেন, এবার চট্টগ্রামে যতবার এসেছি টুঙ্গিপাড়ায়ও ততবার যাইনি। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার চট্টগ্রামের প্রবেশ তোরণ এবং পর্যটন শহর কক্সবাজারের গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে। স্বল্পসময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করায় সেনাবাহিনী সদস্যদের অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারটি চট্টলা শার্দুল খ্যাত মরহুম এমএ মান্নানের নামে নামকরণ করেন। এছাড়া মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত যে ফ্লাইওভারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তার নামকরণ করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী (মরহুম) ফ্লাইওভার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্যোগে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে বারিক বিল্ডিং হয়ে কর্ণফুলী ব্রীজ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ করা হবে।
সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
উল্লিখিত ২৯টি প্রকল্পের মধ্যে ২০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বলে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বিকালে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর দরবার হলের অনুষ্ঠান ও সেনাবাহিনীর একটি কমপ্লেক্স উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের অবদান দেশের স্বাধীনতায় তারা ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।
সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুবর্ণ জয়ন্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্য সংবলিত ম্যুরাল উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ম্যুরালটি তৈরি করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার স্রষ্টা ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।