বাস চাপায় মেয়ের সামনে মায়ের মৃত্যু
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
রিকশায় মায়ের পাশে বসে শিশু সিঁথি ট্রেনে চড়তে কমলাপুর যাচ্ছিল। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ঈদ উপলক্ষে দাদা বাড়ি সিরাজগঞ্জ যাবে। পেছনের আরেকটি রিকশায় সিঁথির বড় ভাই শীতল ও মামা শরীফ যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাত্ সিঁথি ও তার মাকে বহন করা রিকশাটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। রাস্তায় ছিটকে পড়েন মা-মেয়ে। আর তখনই তার মা সানজিদা আক্তার শ্যামার (৩৫) শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায় ঘাতক বাসের চাকা। এ দৃশ্য দেখে ‘মা’ বলে চিত্কার করে ওঠে সিঁথি। হাসপাতালে নেয়ার আগেই শ্যামার মৃত্যু হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর কমলাপুরে বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা।
শ্যামার স্বামী এসআই আবু সাঈদ বরিশাল র্যাব-৮-এ কর্মরত। তারা ঢাকায় এজিবি কলোনীর ১০৯ নম্বর বিল্ডিংয়ে থাকেন। সিঁথি মতিঝিল মডেল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। সিঁথির ভাই শীতল ঢাকা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাদের রেলস্টেশনে পৌঁছে দিতে সঙ্গে যাচ্ছিলেন শরীফ।
মায়ের সঙ্গে ট্রেনে যাওয়ার কথা থাকলেও লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে দাদা বাড়ি যায় সিঁথি। মতিঝিল থানার ওসি ফরমান আলী বলেন, ঘাতক বাসটি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল থেকে সামান্য দূরে দক্ষিণ কমলাপুর সড়কে শিশু নূসরাতের সামনে তার মা রোকসানা বেগম লায়লাকে একটি বাস চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।