বরিশালে হাট-বাজার ‘মোটা তাজা’ গরুতে সয়লাব

কোরবানির গরুর হাটে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর গরু মোটা-তাজা করণের দ্রব্য খাইয়ে দেদারছে গরু বাজারজাত করছেন। ক্রেতারা না বুঝেই এসব মোটা-তাজা গরু ক্রয়ের জন্যই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এসব গরু দেখে আকৃষ্ট হয়ে বেশি দামে ক্রেতারা কিনছেন। অথচ বিশেষ ট্যাবলেট খাওয়ানোর কারণে এসব গরুর মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান। হাটগুলোতে গতকাল শনিবার বিপুলসংখ্যক ভারতীয় গরুর আমদানি ঘটেছে। সেখানেও সেই মোটা-তাজা গরু গত দু’দিন ধরে বেচা-কেনার ধুম পড়ে গেছে। বাজার ঘুরে মোটা-তাজা গরু সম্পর্কে জানতে চাইলে গরুর পাইকার ও খামার মালিকরা জানান, কোরবানির ২/৩ মাস আগে থেকে গরু মোটা-তাজা করার লক্ষ্যে ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। কৃত্রিমভাবেই গরুর দেহ সুঠাম হয়ে উঠে। ওষুধের মাধ্যমে মোটা- তাজা করা গরু ৪০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে জবাই করা না হলে তা মারা যায় বলে জানিয়েছেন ফেরদৌস হাওলাদার নামে এক কসাই। গতকাল শনিবার বিভিন্ন কোরবানির গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি হাটেই মোটা-তাজা গরুর চাহিদা বেশি। এসব গরুর শরীরে তেলতেলে ভাব। এসব গরু কসাই ছাড়া কেউ দেখে তেমন একটা চিনতে পারেন না। কৃত্রিম মোটা তাজা করা গরুর সিংহভাগই ভারতীয় গরু বলে জানিয়েছেন বাজারে গরু কিনতে আসা ক্রেতারা। দেশি জাতের গরুও মোটা-তাজা করণে পিছিয়ে নেই খামার মালিকরা। বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রাম থেকে বোয়ালিয়া বাজারে গরু বিক্রি করতে নিয়ে আসা খামারি আকতার হোসেন জানান, মোটা-তাজা করণের ‘ওষুধ’ সেবন করে থাকে পেশাদার গরু ব্যবসায়ী ও পাইকরারা। ওষুধ সেবনে এসব গরু দেখতে মোটা হয় ঠিকই কিন্তু গরুর শরীরে চামড়ার নিচে পানি জমে ফুলে যায়। গরুর শরীরে বিপুল পরিমাণ চর্বি হয়ে পশুকে তেলতেলে দেখায়। পশুর মুখমণ্ডল ফুলে গেলেও মাংস বাড়ে না। এটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয় বলে একাধিক খামারি জানান। তবে খামার মালিকরা নিজেদের খামারে গরু মোটা-তাজা করার কথা অস্বীকার করেন। ‘আল-বারাকা গরুর ফার্মে’র মালিক আমিনুল ইসলাম তোতা জানান, কতিপয় ব্যবসায়ী সাধারণ খাবারের সাথে দ্রুত মোটা করতে এসব গরুকে ক্যাটল-কেয়ার, ইনজ্যাইভিট, এনোরা, সেটরন জাতীয় ওষুধ খাওয়াচ্ছে। অনেক মুনাফালোভী পাইকার কোরবানির এক/দেড় মাস আগে গরু ক্রয় করে ইউরিয়া সার পানিতে মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানোর মাধ্যমে মোটা-তাজা করে কোরবানির হাটে বিক্রি করেন। পশু চিকিত্সকরা জানান, ইউরিয়া সারে কেমিক্যাল থাকায় গরুর মৃত্যুর পাশাপাশি এসব পশুর মাংস খেয়ে মানুষের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। মানুষের শরীরে যে ধরনের কেমিক্যাল ক্যান্সার সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে সেই জাতীয় কেমিক্যাল ইউরিয়া সারে বেশি পরিমাণে থাকে বলে একাধিক পশু চিকিত্সক জানান। পশু চিকিত্সকরা কোরবানির গরু কেনার সময় ক্রেতাদের সর্তক থাকার পরার্মশ দেন। শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার চিকিত্সক ডাক্তার জহিরুল হক মানিক ‘ইত্তেফাক’কে জানান, কোরবানির হাট থেকে এসব পশু ক্রয়ের ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। না হলে আইন প্রয়োগ করে কৃত্রিম মোটা-তাজা গরু ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করা সম্ভব নয়।