ভারতে ২শ কিমি বেগে আঘাত হেনেছে পাইলিন

ঘূর্ণিঝড় পাইলিন ভারতের উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকার গোপালপুরে আঘাত হেনেছে। গতকাল স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টায় ঘন্টায় ২শ কিলোমিটার বেগে এই ঝড় আঘাত হানে। এর প্রভাবে ১০ ফুট জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। প্রতি ঘন্টায়ই ঝড়ের গতিবগে বাড়ছিল। পাইলিনের আঘাতে তাত্ক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য এর প্রভাবে সৃষ্ট দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে গাছ ও মাটির ঘর চাপায় কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঘরবাড়ি এবং গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। ঘূর্ণিঝড়টি উড়িষ্যার উপর দিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যায়। পুরো উড়িষ্যার পাশাপাশি অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায়ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে। ছত্রিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানার আগেই এর প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণে উড়িষ্যায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে গাছের নিচে চাপা পড়ে চারজন এবং মাটির ঘর ধসে এক জন মারা যায়। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত ১৪ বছরের মধ্যে এটাই ভারতে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ের আঘাত। ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা উপেক্ষা করে উড়িষ্যা উপকূলে ট্রলারে অবস্থানকারী ১৮ জেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন এবং উদ্ধারতত্পরতা শুরুর নির্দেশও দিয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গোপালপুর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে সরকার থেকে জানানো হয়েছে। ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রেখে সেটি বিমানবাহিনীকে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তত্পরতা চালানোর জন্য ১৮টি হেলিকপ্টার, ১২টি বিমান এবং দুটি যুদ্ধ জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে থাকা উড়িষ্যার গঞ্জাম, জগিসংপুর ও খোরদায় রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝড়ে প্রাণহানি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের আট লাখের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে যা ভারতের ২৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোককে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আশংকায় পূর্ব উপকূলে গতকাল রেড এলার্ট জারি করে। হাওড়া-বিশাখাপত্তম রুটে ৫৬টি ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। গতিপথ পাল্টে অন্যদিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১৬টি ট্রেন। আজ রবিবারও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হতে পারে। ঝড়ে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।