বিএনএফ-এর নিবন্ধন নিয়ে কেন এত তোড়জোড়

প্রায় তিন যুগ আগে ভূমিষ্ঠ ও তার অব্যবহিত পরই অপমৃত্যু হওয়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নিয়ে কোন কোন মহল তোড়জোড় শুরু করেছে। এতদিন পর হঠাত্ করে আবার বিএনএফ আবির্ভাব, নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধনের আবেদন এবং নিবন্ধন প্রদানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির তীব্র আপত্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে ঔসুক্যের সৃষ্টি করেছে। বিএনএফের বর্তমান নেতৃত্বের দাবি এই দল সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী। তিনিই বিএনএফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনএফের লোগো ধান গাছ, বিএনপির নির্বাচনী প্রতীকের প্রায় অনুরূপ। নিবন্ধন পেলে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিএনএফ প্রতীক হিসাবে গমের শীষ, ধান গাছ অথবা ধানের গুচ্ছ চাইবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার দুই দফা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিএনএফকে নিবন্ধন না দেয়ার দাবি জানান। বিএনপির অভিযোগ, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই সরকারের ‘নীল নকশা’ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিএনএফকে নিবন্ধন দেয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২রা মে বিএনএফ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিএনএফের প্রার্থী হিসাবেই ঐ বছরের ৩রা জুন জেনারেল ওসমানীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। বিএনপির ১৯ দফা দাবি ছিল বিএনএফের নির্বাচনী ইস্তেহার। বিএনএফের অন্য শরীকরা ছিল ভাসানী ন্যাপ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ, মওলানা মতিনের লেবার পার্টি এবং রসরাজ মন্ডলের তপসিল জাতি ফেডারেশন ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের মুসলিম হলে বিএনপির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন এবং ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি দলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের পর বিএনএফের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়। কিন্তু হঠাত্ করে ২০১১ সালের ৭ই নভেম্বর বিএনএফের পুনঃআত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০১২ সালের ১০ আগস্ট রাজধানীর ইম্পেরিয়াল হোটেলে এক ইফতার মাহফিলে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে আহ্বায়ক এবং আবুল কালাম আজাদকে স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ঘোষণা করে বিএনএফের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঐ বছরের ১২ই অক্টোবর অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম এলডিপি ছেড়ে বিএনএফে যোগ দেন এবং তাকে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। গত মাসের শেষের দিকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনএফ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এমনকি তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আবেদন করে আসেন, বিএনএফকে যেন নিবন্ধন না দেয়া হয়। এদিকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের শর্ত পূরণে দুই দফা ব্যর্থ হবার পর তৃতীয় দফা আবেদনের পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত জেলা পর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পৌঁছেছে। ঈদের পর কমিশন সভা করে বিএনএফের নিবন্ধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর জারি করা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী অন্তত ২২টি জেলা ও ১০০ উপজেলায় দলের কমিটি ও কার্যালয় থাকার নিয়ম রয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে অন্তত ২০০ ভোটার সদস্য থাকতে হবে। প্রথম দফা তদন্তে মাত্র ১৯টি জেলায় এবং ৩২টি উপজেলায় বিএনএফের কার্যালয় ও কমিটির খোঁজ পাওয়া যায়। গত ৪ঠা আগস্ট বিএনএফ তাদের নিবন্ধনের জন্য সময় বাড়াবার আবেদন করলে অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করা হয়। দ্বিতীয় দফা তদন্তে ২৬ জেলা ও ৮৮ উপজেলায় তাদের কার্যালয় পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তদন্ত করা হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পৌঁছেছে। এখন কমিশন সভা করে কোন দলের আপত্তি আছে কিনা জানতে চেয়ে দলটির নিবন্ধনের বিষয়ে পুনরায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে। এরপর তাদের নিবন্ধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।