মাসিক বেতন ৫শ’ টাকা!
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসচ্ছল পরিবার থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টটাইম চাকরি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে বিভিন্ন সহকারী পদে ছয় মাস মেয়াদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ‘গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা’।’ কিন্তু মাসে তাদের বেতন মাত্র ৫০০ টাকা। এই সামান্য অর্থ তাদের মাসিক খরচ বা শিক্ষা সামগ্রী ক্রয়ে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই এ চাকরির প্রতি আগ্রহ কমেছে ছাত্র-ছাত্রীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম চাকরির ব্যবস্থাটি তত্ত্বাবধান করেন ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শ দান দফতর। এ দফতর সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তার জন্য এ পার্টটাইম চাকরির সুযোগ তৈরি করা হয়। প্রতিবছর মে এবং নভেম্বর মাসে ৭৫টি পদের বিপরীতে চাকরির আবেদন আহবান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসি এবং হলগুলোর অফিসে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নিয়োগ পান। কিন্তু বেতন কম হওয়ায় প্রায় সময়ই ৭৫টি পদের অনেকগুলোই খালি পড়ে থাকে।
ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের সাথে পরিচিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রাপ্তিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯৬২ সালে শিক্ষার্থীরা এখানে ১৫০ টাকা মাসিক বেতন পেতেন। এ টাকায় একজন শিক্ষার্থী স্বচ্ছন্দে নিজের খরচ নির্বাহ করতে পারতেন। এরপর বেতন ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০০১ সালে ৫০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে এই বেতন শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোনো কাজেই আসে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একইমত প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষকও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে পার্টটাইম চাকরি করেন এমন একজন শিক্ষার্থী বলেন, আর্থিক অনটনের কারণেই বিভাগের নোটিস বোর্ডে দেয়া চাকরির এ বিজ্ঞাপনে সাড়া দেই। কিন্তু যে পরিমাণ অর্থ দেয়া হয়- তা তেমন কোনো কাজে আসে না। নিরূপায় হয়েই এতে সময় দিচ্ছি।
অপর এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্টটাইম চাকরির এ ব্যবস্থাটি অনেক পুরানো। এটি হাল নাগাদ না করাটা একটি প্রহসন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইন ভিত্তিক বেশকিছু কাজ ফ্রিল্যান্সের মাধ্যমে করাচ্ছে। সেগুলোতে উচ্চ বেতনে কাজ করছেন কয়েকজন কর্মকর্তার সন্তান। এ বিষয়গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ন্যূনতম সচেতনও নন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতরের সহকারী পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান বাবুল বলেন, বেতন হিসেবে যে টাকা শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়, তা খুবই সামান্য। এটি বাড়াতে কয়েক দফা সুপারিশ করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পদের সংখ্যাও বাড়ানো দরকার।
তিনি বলেন, প্রতি ছয় মাসে এখন ৭৫ জন চাকরি করতে পারেন। বছরে ১৫০ জন। এটি অনেক বছর আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি অন্তত প্রতিবারে ১৫০টি করে বছরে ৩০০ পদ সৃষ্টি করা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, বিষয়টি সিন্ডিকেটে ‘সেভাবে’ উপস্থাপন করা হয়নি। সম্মানি বাড়ানো প্রয়োজন। বিষয়টি সকলের নজরে এনে বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে।