আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত

দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন

 মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে নির্বাচন পর্যন্ত  ২৪ অক্টোবরের পরেও সংসদ চলতে পারে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বহাল রাখার কথা বলা হয়। জানা যায়, বিরোধী দল যেহেতু সমঝোতার পথে আসেনি সেজন্য সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের পদত্যাগের বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী ‘মিডিয়া বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল দ্বন্দ্ব বিভেদ ভুলে আগামী নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনতে সকল নেতাকর্মীকে একজোট হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। গতকাল সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত চলা এ বৈঠকে আগামী নির্বাচন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলের অযৌক্তিক আন্দোলন মোকাবেলা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের গতকালের এ বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে থাকছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর কো-চেয়ারম্যান হিসাবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার আগেই আওয়ামী লীগ তাদের সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেইসঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের জনগণের মাঝে সরকারের সফলতা তুলে ধরার নির্দেশ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। আর কেন্দ্রীয় নেতাদের শুধু নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই নয় সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে হবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে ওয়ার্কিং কমিটির সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলতে কোন বাধা নেই। ঐ দিন পর্যন্ত সংসদ চালাতে সাংবিধানিকভাবে কোন বাধা নেই। সংবিধানে বলা আছে, সংসদের একটি অধিবেশন থেকে অন্য অধিবেশনের ব্যবধান যেন ৬০ দিনের বেশি না হয়। তবে নির্বাচনকালীন তিন মাস সময়ের ক্ষেত্রে এই বিধানটি শিথিল করা হয়েছে। সংসদ বসতে পারবে না এমনটি সংবিধানে বলা নেই। তাই ২৪ অক্টোবরের পরেও সংসদ চলতে পারে। অনেকে না জেনে এ বিষয়ে কথা বলছেন। ২৪ অক্টোবরের পর সংসদ অধিবেশন চলা, না চলা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গতকাল তাঁর বক্তৃতায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন। ২৪ অক্টোবরের পর বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকিরও জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতা নাকি ২৪ অক্টোবরের পর দেশে কিয়ামত নিয়ে আসবেন। এই কেয়ামত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় আমরা অতীতে যা করেছি তাই করবো। তারা দেশবাসীর জন্য কেয়ামত আনতে চাইলে দেশবাসীকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন দলের শীর্ষ নেতারা। প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশন বসা নিয়ে চলা বিতর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, টকশোতে দেখেছি অনেকে বলছেন, ২৪ অক্টোবরের পর আর সংসদ বসতে পারবে না। কিন্তু এই ২৪ অক্টোবরের কথা আমরাই হিসাব করে বলেছি। কারণ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হলে সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। যেহেতু এই সময়টি নির্বাচনকালীন সময় তাই এই সময়ে সংসদ অধিবেশন বসার ক্ষেত্রে ৬০ দিনের বাধ্যবাধকতাটি শিথিল করা আছে। যদি প্রেসিডেন্টের অনুরোধে সংসদ না ভাঙা হয় তাহলে সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চালাতে কোন বাধা নেই। তিনি বলেন, সংসদ বসতে পারবে না এমন বক্তব্য ঠিক নয়। প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দিলেও জরুরি প্রয়োজনে তিনি সংসদ অধিবেশন আহবান করতে পারেন। যারা এ বিষয়ে সমালোচনা করেন তাদের সংবিধানের ৭২ ও ১২৩ ধারা ভাল করে পড়ে নেয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। সকল বাহিনীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠন করুন :প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এগিয়ে আসতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীসহ সব বাহিনীর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল রাজধানীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৩ উদ্বোধনকালে আরো বলেন, প্রত্যেক বাহিনীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি করে পৃথক ইউনিট, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ থাকতে হবে। তিনি দুর্যোগকালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপর অধিকতর মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে দুর্যোগ প্রশমন ব্যবস্থা ও নীতি প্রণয়নে প্রতিবন্ধীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর নেল ওয়াকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উল-আলম বক্তৃতা করেন। এর আয়োজক হচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ‘প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে রাখব, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়বো’- দিবসটির এই প্রতিপাদ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবণ দেশ। প্রতিবন্ধীদের প্রয়োজন বিবেচনা করার ব্যর্থতার জন্য তারা দুর্যোগকালে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সকল জাতীয় কর্মকাণ্ডে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য সমান সুযোগ, সমান অধিকার ও সমান অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন-২০০১, স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাস্টার-২০১০ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২-এ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।