এই ঈদেও চাই নতুন পোশাক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
ঈদের আর মাত্র দুইদিন বাকি। তাই কেনাকাটা সারতে ব্যস্ত নগরবাসী। যদিও ঈদ-উল আজহায় পশু কোরবানি দেয়াই প্রধান লক্ষ্য থাকে, তারপরও নতুন পোশাক না হলে চলে! আর এবছর পূজা আর ঈদ কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় দুই ধর্মের মানুষের কেনাকাটায় এখন সরগরম রাজধানীর বিপণী বিতানগুলো।
গত শনিবার রাজধানীর শপিং কমপে¬ক্সগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ-পূজা উপলক্ষে নতুন পোশাক বিক্রি হচ্ছে বাহারি দামে। তবে দোকানীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত ঈদ-উল আজহার তুলনায় এবছর ক্রেতা অর্ধেক কম। এবার পোশাকের ডিজাইনে তেমন পরিবর্তন না আসলেও রোজার ঈদের ডিজাইনের সাথে যুক্ত হয়েছে সামান্য ভিন্নতা। মেয়েদের কামিজের ঝুল এবারও দীর্ঘ থাকছে। তবে নীচের কাটিং বৈচিত্র্য আছে। কোনাকুনি, ফিশ কাট ও একটু লম্বাটে কাটের কামিজ কিনছেন তরুণীরা। সাধারণ কাটের সালোয়ার থেকে লেগিংস ও চুড়িদার বেশি কিনছেন মেয়েরা। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, নিউমার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনী চক এর পাশাপাশি মিরপুর প্রধান সড়কে জেনেটিক প্ল¬াজা, রাপা প্ল¬াজা, সানরাইজ প্ল¬াজা, এ আর এবং মেট্রো শপিং মল ঘুরে কেনাকাটার ব্যস্ততা চোখে পড়লো। তবে অভিজাত শপিং কমপে¬ক্সগুলোতে পোশাকের বিপুল সমারোহ থাকলেও ভিড় তুলনামূলক কম।
মোহাম্মদপুর থেকে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে কেনাকাটা করতে আসা ইফতি্ জানান, তিনি নতুন একটি পোশাক কিনলেন তিন হাজার টাকা দিয়ে। রাশেদা খানম দুই মেয়ে আর নাতী-নাতনীসহ এসেছেন ঈদের বাজার করতে। রাশেদা জানান, ছোট মেয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে ঈদ করতে এসেছে। তাই এবার একটু বেশি কেনাকাটা করছেন তিনি। ওর জন্য তো বটেই অন্যরাও বাদ পড়ছে না। দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানের চেয়ে দামটা একটু বেশিই। এসব শপিংমলে পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ১৫শ’ থেকে দশ হাজার টাকায়।
‘চৈতি’ শোরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌকির আহমেদ বললেন, এবারের ঈদ ও পূজায় গতবারের চেয়ে ক্রেতা কম। তিনি এ জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করলেন। ‘সাদা কালো’ থেকে নরমাল ডিজাইনের একটি পাঞ্জাবি প্রায় ২ হাজার টাকায় কিনলেন মালিবাগের রোহান। এ বিষয়ে ‘সাদা কালো’র অন্যতম কর্ণধার তাহসীনা শাহীন বলেন, বাজার ছোট থাকার কারণে আমরা মানসম্পন্ন পণ্য কম দামে দিতে পারি না। তারপরও সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে আমাদের পণ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়। শাহীন আরো বলেন, এখন তাদের ভারত-পাকিস্তানের পোশাকের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।
রাপা প্ল¬াজার ‘ডায়ানা’ এবারের ঈদে ভারত থেকে বেশকিছু জমকালো পোশাক আমদানি করেছে। দোকানী জানান, রোজার ঈদে মাসাককালি, আশিকি টু, সানি লিওন, পানকৌড়ি নামের ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি ছিল বলে এবার সেগুলোও আছে।
বসুন্ধরা সিটিতে রয়েছে রং, সাদা-কালো. দেশাল, নগর দোলা, অঞ্জন, প্রবর্তনা, বিবিয়ানা, নিপুণ, কে-ক্র্যাফট ও বাংলার মেলা’র সম্মিলিত শোরুম ‘দেশী দশ’। একসাথে এক জায়গায় বাহারি পণ্য কেনার সুযোগ থাকে বলে এখানে ভিড় বেশি। রংয়ের বিক্রেতা জানান, আজ বিদ্যুত্ না থাকায় তাদের বেচাকিনিতে প্রভাব পড়েছে। রঙের পেশাকের দাম পড়বে ১৮শ’ থেকে সাত হাজার এর মধ্যে।
এছাড়াও বেইলি রোডে, ধানমন্ডির আনাম র্যাংস প্লাজা, অরচার্ড পয়েন্ট, নন্দন কুটির, বিবিয়ানাসহ বিভিন্ন বিপণীবিতান ও বুটিক হাউসগুলোতে দেখা গেলো ক্রেতাদের ভিড়। দেশি পোশাক সুবিধাজনক দামে পাওয়া যায় আজিজ সুপার কো-অপারেটিভ মার্কেটে। এখানেও তরুণ-তরুণীদের দেশীয় সূতির পোশাক কিনতে দেখা গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তূর্ণা ও আরিফ জানান, তারা ‘নিত্য উপহার’ থেকে শাড়ি ও পঞ্জাবি কিনেছেন। এই দোকানে পাওয়া যাচ্ছে হাতের আঁকা, ব্লক আর এমব্রোয়ডারির কাজ করা শাড়ি ও পোশাক। আজিজ সুপার কো-অপারেটিভ মার্কেটে পোশাকের দাম পড়বে পাঁচশ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা।