চামড়া পাচারকারী চক্র উত্তরাঞ্চলে সক্রিয়
মো. মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া পাচারকারী চক্র তত্পর হয়ে উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের সীমান্তপথে চামড়া পাচারের জন্য ইতিমধ্যে ভারতীয় আড়তদারের কাছ থেকে চক্রটি অগ্রিম নেয়া শুরু করেছে।
সূত্র জানায়, প্রতি বছর যে চক্রটি সীমান্তপথে ভারতে চামড়া পাচার করে এবারও তারা সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছে। চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য লোক নিয়োগসহ সুদ ছাড়াই লগ্নি করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ভারতীয় আড়তদারদের কাছ থেকে চক্রটি পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে অগ্রিম নিয়েছে। চামড়া সংগ্রহ করার জন্য কসাইদের হাতে অগ্রিম টাকা তুলে দেয়া হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় চামড়া সিন্ডিকেটের বিনা সুদে কোটি কোটি টাকা লগ্নির কারণে প্রায় ৮৫ শতাংশ চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের বাজারে চামড়ার দরপতন, গরুর উচ্চ মূল্য, চড়া সুদে ব্যাংক থেকে টাকা পেতে নানা ঝুট-ঝামেলা, চামড়া দিয়ে আড়তদারের কাছ থেকে টাকা পেতে দীর্ঘসূত্রিতাকে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্র। দিনাজপুর ছাড়াও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার করতে চক্রটি সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
চামড়ার বাজার রাজারহাটে অস্থিরতা
যশোর অফিস থেকে আহমেদ সাঈদ বুলবুলের পাঠানো খবর, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার রাজারহাটে অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ট্যানারি মালিকদের চামড়ার দর নির্ধারণ না করা এবং সীমান্তপথে পাচারের আশঙ্কায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘ভারতীয় মহাজনরা’ স্থানীয় চোরাচালানীদের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহে মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
রাজারহাটের চামড়ার বাজারকে ঘিরে চোরাচালান সিন্ডিকেট সবসময় সক্রিয় থাকে। এবারও এদের তত্পরতা শুরু হয়েছে। প্রধানত ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের পুঁজি নিয়ে সিন্ডিকেট বৈধ চামড়া ব্যবসায়ীর ছদ্মাবরণে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চামড়ার মজুদ গড়ে তোলে এবং পরে সীমান্তপথে ভারতে পাচার করে। যশোরের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, চামড়া পাচার রোধে গত বছর ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। আজ-কালের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে জমজমাট পশুর হাট
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। প্রতি বছরের মত এবারও ভারতীয় গরুর চেয়ে দেশি গরু বিক্রি হচ্ছে। আর দাম তুলনামূলকভাবে কম। হাটগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন সীমান্তপথে সীমিত আকারে গরু প্রবেশ করছে। শিবগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতীয় গরুর চাহিদা ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। হাটে ভারতীয় গরু তুলতে পারলেই বিক্রি নিয়ে কোন ভাবনা থাকে না।
দাম কম, নাখোশ বগুড়ায় চামড়া ব্যবসায়ীরা
বগুড়া প্রতিনিধি জি এম সজল জানান, বগুড়ায় পশু কোরবানি ও চামড়া কেনা-বেচার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এবার ট্যানারী মালিকরা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ১০ টাকা কমিয়ে দেয়ায় বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা নাখোশ। তাদের যুক্তি হচ্ছে, ঢাকার বাইরে চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় বেশি । ফলে দাম প্রতি বর্গফুটে ১০ টাকা বেশি হওয়ার কথা।
বগুড়ার অধিকাংশ চামড়া ব্যবসায়ী জানান, এ ব্যবসার ক্ষেত্রে বাকি বিক্রির প্রথা চালু রয়েছে। এতে হাতেগোনা কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ীর লাভ হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যাই বেশি। এ কারণে তারা বকেয়া পরিশোধ করে নগদ টাকায় চামড়া কেনার দাবি জানান। প্রতি বছর বগুড়ায় ৫০ কোটি টাকার ওপরে চামড়া কেনা-বেচা হয়। এর সিংহভাগ টাকাই দীর্ঘদিন আটকে থাকে আড়তদার ও ট্যানারী মালিকদের কাছে।