কলমানি মার্কেট নিরুত্তাপ

প্রতিবছর ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে নগদ টাকার জন্য ব্যাংকে গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এবছর ঈদ-উল-আজহা ও দুর্গাপূজা একই সময়ে হওয়ার এ ভিড় আরো বেড়ে গিয়েছিল। গতকাল রবিবার ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহকদের ভিড় ছিল অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। তবে এ ভিড়ের প্রভাবেও মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার কোনো টানাটানি ছিল না। এজন্য আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকা খাটিয়ে খুব বেশি লাভও করতে পারেনি টাকা উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংকগুলো। ফলে ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে স্বল্প সময়ের জন্য ধার বা কলমানি সুদের কারবার জমেনি বললেই চলে। ব্যাংকগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে তারল্য থাকায় এ অবস্থা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত কলমানি মার্কেটে সুদের হার ৯ শতাংশের বেশি উঠেনি। গতবছর কোরবানীর ঈদে কলমানিতে সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ। অথচ মাত্র তিন বছর আগে অর্থাত্ ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ছিল মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার সঙ্কটের নজিরবিহীন দিন। ওই দিন ১৯০ শতাংশ সুদে কলমানি থেকে টাকা ধার করতে হয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। নগদ টাকার এ রমরমা কারবার চলেছে পরের বছরও। তবে গত বছর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে ৭২ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগে মন্দার কারণে দিনে দিনে ব্যাংকগুলোতে এ পরিমাণ টাকা জমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে টাকার চাহিদা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার (জিএম) সাইফুল ইসলাম খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বাজারে ছাড়ার জন্য ২২ হাজার কোটি টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে ব্যাংকগুলো নিয়েছে মাত্র সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা।