ভূ-মধ্যসাগরে আবারও নৌকাডুবি ইটালির টহল জোরদার

উত্তর আফ্রিকা থেকে জনাকীর্ণ নৌকা করে আসা শত শত অভিবাসীর মৃত্যুর কারণে ইতালি বিমান ও নৌপথে টহল জোরদার করবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এনরিকো লেট্টা বলেন, সোমবার থেকে আকাশপথ ও নৌপথেও সতর্কাবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাল্টা ও ইটালির লাম্পেদুসার মধ্যবর্তী স্থানে শুক্রবার আবারও অভিবাসী বহনকারী নৌকাডুবিতে ৩৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নৌকাটিতে প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী ছিল। এই নিয়ে এই মাসে ইটালিতে দ্বিতীয়বারের মতো নৌকাডুবির ঘটনা ঘটলো। মৃতদের মধ্যে ১০ জন শিশুও রয়েছে। ল্যাম্পেদুসার একশ’ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভূ-মধ্যসাগরে অভিবাসী নৌকাডুবির ঘটনায় জীবিত এক ব্যক্তি এবডি সেই ভয়াল দৃশ্যের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এবডি বলেন, তিনি ও তার সহযোগী যাত্রীরা উদ্ধারের অপেক্ষায় একঘন্টারও বেশি পানির মধ্যে ছিলেন। এবডি বলেন, তিনি মূলত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে এসেছেন। তিনি তার এক ভাই ও এক চাচাসহ প্রথমে মিসর পরে লিবিয়া হয়ে ইটালির যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। তবে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল সুইডেন। কারণ সেখানে তাদের এক আত্মীয় থাকেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা শরণার্থী শিবির থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সৈকতে অপেক্ষা করতে থাকেন। তাদেরকে বলা হয়েছিল অত্যন্ত মজবুত নৌকায় তাদের নেয়া হবে কিন্তু তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন নৌকাটি অত্যন্ত ছোট ও কাঠের তৈরি। নৌকাটি দেখে খুবই মন খারাপ হল কিন্তু তখন আর ফিরে যাবার কোন উপায় ছিল না কারণ অনেক দেরি হয়ে গেছে। আবডি জানান, নৌকাটি সাগরে চলার সময় একটি বড় ধরনের ছিদ্র হয় কিন্তু তখন চালকের করার আর কিছু ছিল না। কারণ প্রচণ্ড ঢেউয়ে নৌকাটি মাল্টার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্তে চালক নৌকাটির ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং নৌকাটিতে পানি উঠতে থাকে। এ সময়ে সবাই প্রাণভয়ে উচ্চৈস্বরে কান্নাকাটি করতে থাকেন। এ সময়ে সবাই চিত্কার করে ইটালির উদ্ধারকর্মীদের ডাকতে থাকেন।