কুরবানির উত্তম সময় কখন
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫১
কুরবানি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত একটি এবাদত। এ সময়ের পূর্বে যেমন কুরবানি আদায় হবে না তেমনি পরে করলেও আদায় হবে না। যারা ঈদের সালাত আদায় করবেন তাদের জন্য কুরবানির সময় শুরু হবে ঈদের সালাত আদায় করার পর থেকে। যদি ঈদের সালাত আদায়ের পূর্বে কুরবানির পশু জবেহ করা হয় তাহলে কুরবানি আদায় হবে না। আল-বারা ইবনে আযেব রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : আমি শুনেছি রসূলুল্লাহ (স.) খুতবাতে বলেছেন : এ দিনটি আমরা শুরু করব সালাত দিয়ে। অত:পর সালাত থেকে ফিরে আমরা কুরবানি করব। যে এমন আমল করবে সে আমাদের আদর্শ সঠিকভাবে অনুসরণ করল। আর যে এর পূর্বে জবেহ করল সে তার পরিবারবর্গের জন্য গোশতের ব্যবস্থা করল। কুরবানির কিছু আদায় হল না (বুখারি- ৯৬৫)। সালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে কুরবানির পশু জবেহ না করে সালাতের খুতবা দুটি শেষ হওয়ার পর জবেহ করা ভাল। কেননা রসূলুল্লাহ (স.) এ রকম করেছেন। হাদিসে এসেছে:সাহাবি জুনদুব ইবনে সুফিয়ান আল-বাজালী (রা.) বলেছেন : নবী কারীম (স.) কুরবানির দিন সালাত আদায় করলেন অত:পর খুতবা দিলেন তারপর পশু জবেহ করলেন (বুখারি- ৯৮৫)। জুনদুব ইবনে সুফিয়ান বলেন, আমি কুরবানির দিন নবী কারীম (স.)-এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি নামাজের পূর্বে জবেহ করেছে, সে যেন আবার অন্য স্থানে জবেহ করে। আর যে জবেহ করেনি সে যেন জবেহ করে (বোখারি- ৫৫৬২)। আর কুরবানির সময় শেষ হবে যিলহজ মাসের তেরো তারিখের সূর্যাস্তের সাথে সাথে। অতএব কুরবানির পশু জবেহ করার সময় হল চার দিন। যিলহজ মাসের দশ, এগারো, বার ও তেরো তারিখ। এটাই উলামায়ে কেরামের নিকট সর্বোত্তম মত হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে। কারণ :এক. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :‘যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদের চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে’ (সূরা হজ্ব : ২৮)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বোখারি (রহ.) বলেন : ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: ‘এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে বুঝায় কুরবানির দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন।’ অতএব এ দিনগুলো আল্লাহ তাআলা কুরবানির পশু জবেহ করার জন্য নির্ধারণ করেছেন। দুই. রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন :‘আইয়ামে তাশরীকের প্রতিদিন জবেহ করা যায়’ (আহমদ- ৪/৮২, হাদিসটি সহিহ)। আইয়ামে তাশরীক বলতে কুরবানি পরবর্তী তিন দিনকে বুঝায়। তিন. কুরবানি পরবর্তী তিন দিনে সওম পালন জায়েজ নয়। এ দ্বারা বুঝে নেয়া যায় যে এ তিন দিনে কুরবানি করা যাবে। চার. রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন : ‘আইয়ামে তাশরীক হল খাওয়া, পান করা ও আল্লাহর জিকির করার দিন।’ এ দ্বারা বুঝে নিতে পারি যে, যে দিনগুলো আল্লাহ খাওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছেন সে দিনগুলোতে কুরবানির পশু জবেহ করা যেতে পারে। পাঁচ. সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত হয়, কুরবানি পরবর্তী তিনদিন কুরবানির পশু জবেহ করা যায়। ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন : আলী ইবনে আবি তালেব (রা.) বলেছেন : ‘কুরবানিদিন হল ঈদুল আজহার দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন।’