জোকারি করে চলে প্রতিবন্ধীর সংসার

সার্কাসের জোকার শহিদুল ইসলাম। জীবনের নানা দুঃখ কষ্টকে চেপে রেখে আজো হাজারো দর্শককে আনন্দ দেয়। অঙ্গ প্রতিবন্ধি মেয়ে সোনা মনি ও আব্দুর রহিম তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। নওগাঁ শহরের চক এনায়েত গ্রামের প্রতিবন্ধী শহীদুল ইসলাম ১০/১২ বছর বয়সে রওশন সার্কাসে জোকার হিসেবে কাজ শুরু করে। এরপর সোনার বাংলা, বুলবুল সার্কাসসহ নানা দলে কাটিয়ে দেয় ৩২ বছর। ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়ার প্রসারে সার্কাস দলের রমরমাভাব কেটে যাওযায় পরিবার নিয়ে সে এখন পড়েছে বড়ই বিপাকে। সারিয়াকান্দির হাসপাতাল মোড়ে মজমা শেষ করে শুনালেন তাঁর দুঃখের কথা। তিনি বললেন, নিজে প্রতিবন্ধী হওয়ায় পাত্রীর অভাবে সঠিক সময়ে সে বিয়ে করতে পারেনি। তবে নওগাঁ শহরের হতদরিদ্র পরিবারের ৬ বছরের রেহেনা আক্তারকে সে খুঁজে পায়। তাকে নিয়ে আসে নিজ পেশায়। নিজে হাতে তাকে তালিম দিতে গিয়ে রেহেনা হয়ে যায় ষৌড়শী। তারপর তাকে আর খুঁজতে হয়নি পাত্রী। রেহেনার আপত্তি না থাকায় তাকে বিয়ে করে শুরু করে সংসার। বছর না পেরুতেই ঘরে আসে অঙ্গ প্রতিবন্ধী কন্যা সন্তান। তার নাম রাখা হয় সোনামনি। এর পরের বছরেই ঘর আলো করে আসে আরো একটি অঙ্গ প্রতিবন্ধী ছেলে সন্তান। তার নাম রাখা হয় আব্দুর রহিম। নিজে অঙ্গ প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রতিবন্ধী সন্তান তাকে কষ্ট দিতে পারেনি। কিন্তু বাস্তবতার কাছে হার মেনে তাকে আজ মনে করতেই হচ্ছে যে দু’টি সন্তানই অঙ্গ প্রতিবন্ধী তাঁর সংসার ভারী করে দিয়েছে। ভারী সংসারকে হালকা করতে ৫ বছরের ছেলে প্রতিবন্ধী আব্দুর রহিমকে নিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে শারীরিক কসরত ও যাদু খেলা শুরু করেছে। খেলা দেখিয়ে যা পায় তাই দিয়েই চলে সংসার। প্রতিবন্ধী মেয়ে সোনা মনি বড় হয়েছে কিন্ত বাড়ি-ঘর ও জায়গা-জমি না থাকায় মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছে না। তারপরও জীবনতো আর থেমে থাকতে পারে না। তাই নিজেদের মনের কষ্ট চেপে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেই দেখছে বেঁচে থাকার আশা। এর মধ্যে যদি কোন হূদয়বান মানুষ তাকে একটু ঠাই করে দিতে পারে তবে সেটাই হবে তাঁর বেঁচে থাকার ভরসা।