দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ওজনে কম, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিতরণ অনিয়মে তদন্ত কমিটি গঠনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নে গত রবিবার সকালে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১০ কেজি চালের স্থলে ৬ কেজি করে চাল বিতরণ করার পরও শতাধিক দুস্থ চাল না পেয়ে চলে যান। জানা যায়, ভিজিএফ চাল বিতরণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সব সময়ই চাল কম দিয়ে থাকেন। এবার ঈদে তার ব্যত্যয় ঘটেনি। ঐ দিন টেক অফিসার উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সারোয়ার আলমের উপস্থিতিতে ২ হাজার ২৪ জন কার্ডধারীদের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হয়। জনপ্রতি ৬ কেজি করে চাল বিতরণ নিয়ে কার্ডধারীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ইউপি সদস্যরা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভিজিএফ কার্ডধারী মহিলা জানান, চাল কম দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ করলে পরে আর তাকে চাল দেয়া হবে না। এ কারণে চাল কম পাওয়ার পরও কেউ কোন প্রতিবাদ করে না। ভিজিএফের চাল বিতরণের টেক অফিসার সারোয়ার আলম বলেন, তিনি ২ হাজার ২৪ কার্ডের মধ্যে ৩শ’ কার্ডধারীর চাল বিতরণ না করেই চলে গেছেন। পরে সেখানে কি হয়েছে সেটা ইউপি চেয়ারম্যান জানেন। চাল বিতরণ না করেই কেন তিনি চলে গেলেন এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন জবাব দেননি। একাধিবার মোবাইলে যোগাযোগ করেও ইউপি চেয়ারম্যান কবীর হোসেনকে পাওয়া যায়নি। মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আযহা ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত টিম মাঠে নেমেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাবিরুল ইসলাম খান রবিবার সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। তদন্তকালীন তিনি এলাকার ভিজিএফ বঞ্চিতসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ সময় এলাকাবাসী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে গণঅভিযোগ করে সচিব ফারুক হোসেনের অপসারণের দাবি জানান। তদন্তে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ (ভারপ্রাপ্ত) সরেজমিনে তদন্তে ইউপি ভবনের কক্ষে জমাকৃত প্রায় ২০ বস্তা চাল জব্দ করেছেন। আসন্ন ঈদুল আযহা ও দুর্গাপূজায় নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে ২৫ শ’ ৭২ জন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে ২৫ হাজার ৭শ’ ২০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়। এসব চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ৭ থেকে ৮ কেজি করে। ভিজিএফ বঞ্চিত লাইলী বেগম, আনোয়ারা বেগম, খাদিজা বেগম, বারেক হাওলাদার, মুনসুর শেখ জানায়, তারা ঘুষ দিতে না পারায় তাদের নাম ভিজিএফ, ভিজিডিতে তাদের নাম দেয়া হয়নি।এলাকাবাসী জানান, ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে চাল কম দেয়ার প্রতিবাদ করলে সচিব খারাপ আচরণ করেন। তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ আব্দুস ছালাম প্রমুখ। মেলান্দহ (জামালপুর) মেলান্দহে ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ’র চাল নিম্নমান ও ওজনেও কম বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আযহায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৮শ’ ৩১ পরিবারের বিপরীতে ৬৮.৩১০ মে. টন চাল বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ইউনিয়নে ওজনে কম, জনপ্রতি ১০ কেজির স্থলে ৭/৮ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এ নিম্নমানের চাল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ফড়িয়ারা স্বল্প দামে ক্রয় করছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি সদস্য জানান, ফড়িয়াদের ক্রয়কৃত চালগুলো আবার যাবে খাদ্য গুদামে। এভাবেই ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে নতুন ও ভাল চালের নামে নিম্নমানের চাল গুদামজাত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আ. লতিফ বলেন, কয়েকটি ইউনিয়নে আমি নিজে থেকে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করেছি। একার পক্ষে সব ইউনিয়ন তদারকি করা সম্ভব নয়। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন আক্তার জানান, আমি কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখেছি এক দিকে চালের মান খারাপ। অপরদিকে ওজনেও কম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া জামান জানান, এ সিন্ডিকেটটির শিকড় অনেক বড়। থামানো দুষ্কর। একাধিবার মোবাইলে যোগাযোগ করেও ইউপি চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায়নি। পূর্বধলা (নেত্রকোনা) নেত্রকোনার পূর্বধলায় গত রবিবার ভিজিএফের কার্ডধারীদের কাছ থেকে কম দামে চাল কেনার অভিযোগে ৯শ’ কেজি চাল আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারিভাবে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের ১ হাজার ৪০টি দরিদ্র পরিবারের জন্য পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ করা হয়। ঐ দিন শালথী বাজার সংলগ্ন ইউপি কার্যালয়ে প্রথম দফায় ১ হাজার ২শ’ জনের মধ্যে ওই চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় এক শ্রেণির ফড়িয়া দরিদ্রদের কাছ থেকে কম দামে চাল কেনার সময় ওই ইউনিয়নের তদারকি কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার খান মো. হুমায়ুন কবীর ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোর্শেদ রানা ফড়িয়াদের কাছ থেকে ৯শ’কেজি চাল আটক করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোর্শেদ রানা বলেন, ভিজিএফের চাল বাজারে কেনাবেচার নিয়ম না থাকায় ওই চাল আটক করা হয়েছে।