ঈদ-পূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত তিস্তা চরের মানুষ

তিস্তার চরের কলিমুদ্দিন একজন নৌকার কারিগর। তিনি গত কয়েকদিনে যে নৌকাগুলো তৈরি করেছেন, তা বানানোর খরচটুকুও উঠাতে পারেননি। শুধু কলিমুদ্দিনই নন, আমেনা বেওয়া, ঝিলিক রানী, গৌতম দাশ, মোহন দাশ, কফিল উদ্দিন এরাও বঞ্চিত হয়েছেন এবারের ঈদ ও পূজার উত্সব থেকে। জলঢাকা ডালিয়া বাইশপুকুর এলাকার দুস্থ নারী-পুরুষদের কর্ম না থাকায় কায়িক শ্রম বিক্রি করতে পারেনি প্রায় সহস্রাধিক মানুষ। বালুচরে কুমড়া চাষ করে অনেকেই স্বনির্ভর হয়েছেন। কিন্তু তাতেও বাঁধা! দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগামহীন ঘোড়া পিছপা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে এক মানবিক বিপর্যয়। বছর ঘুরে ফিরে আসা ঈদ ও পূজার সামান্য আনন্দটুকুও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। এমনকি তাদের খোঁজ-খবরও এখন আর কেউ রাখে না। চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, ওই এলাকার বসবাসকারীরা একবেলা খেয়ে অন্য বেলা না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। সাংবাদিক দেখলেই চরাঞ্চলের মানুষ মনে করে, এই বুঝি কেউ ত্রাণ নিয়ে এলো। যারা এ আগ্রাসী তিস্তাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে স্বাবলম্বী হওয়ার তাদের এখন দুর্দিন। অন্যদিকে কর্ম না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক জেলে। মকবুল নামের এক সবজি চাষী বলেন, ‘এ চরে উর্বরতা কম, তাই সব ফসল এখানে ফলে না। আর যে পরিমাণ উত্পাদন হয়, তা চাষাবাদের খরচে সমানে সমান।’