বেপরোয়া অজ্ঞান পার্টি

সারা বছরে দুই ঈদে রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির তত্পরতা থাকে সবচেয়ে বেশি। তাদের সবচেয়ে বেশি টার্গেট থাকে ব্যবসায়ী ও ঘুরমুখী মানুষের ওপর। বাস, ট্রেন, লঞ্চ টার্মিনাল এবং বিভিন্ন পরিবহনে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সক্রিয়। ফেরিওয়ালা বেশে এরা চকলেট, সিগারেট ও পান বিক্রি করে। নির্দিষ্ট খাদ্য দ্রব্যে তারা অজ্ঞান করার ওষুধ মিশিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি তা কিনে খায়, তাকে অন্য কয়েকজন সদস্য পিছু নেয়। যাত্রী বেশে তার পাশে অবস্থান করে। অনেক সময় পথচারী হয়ে তার পিছু নেয়। এক সময়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার আত্মীয় পরিচয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে জিম্মায় নেয়। এরপর পকেট থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগের টাকা নিয়ে কেটে পড়ে। গত এক সপ্তাহে ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অন্তত পাঁচশ মানুষ অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দেড়শ’ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন। এছাড়া আরো অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে অজ্ঞান পার্টির ৪ জন সদস্য গ্রেফতারে তথ্য দেন। তিনি বলেন, ঈদে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন পশুর হাট ও টার্মিনালগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্য গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রোগী ভর্তির নিবন্ধন বই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাংলাবাজার এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন ব্যবসায়ী ইউনুছ মিয়া। তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করার কিছু সময় পর অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে জ্ঞান হারানো নিউমার্কেট থানার এএসআই অলিয়ার, এএসআই আবু হানিফ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়। ঐ দিন দুপুরে বাড্ডার নতুন বাজারের আমেরিকান দূতাবাসের সামনে থেকে অটো ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তার ভাই আসাদ। রাতে মগবাজার মোড়ে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা রহমান চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ীকে রমনা থানা পুলিশ ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করেন। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার গাবতলী গরুর হাটে হেকমত আলী নামে এক গরু বেপারি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে তার গরু বিক্রির সব টাকা খুইয়ে ফেলেন। সিএনজি অটোরিকশা চালক মাজেদ গাজীকে একব্যক্তি নিয়ে আসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঐ দিন দুপুরে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশের এসআই আব্দুল হামিদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যাত্রাবাড়ীর একটি হোটেলের সামনে থেকে এনএসআই সদস্য আবুল বাসার বসিরকে একব্যক্তি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসেন। শনিবার ভোরে লালবাগ রহমতগঞ্জ হাট থেকে গরু বেপারি রাফি চাঁনমিয়া আমান হেলাল রহিমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সময় লালবাগ থেকে আহসান উল্লাহ ও আব্দুল খালেক নামে আরো দুইজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। দুপুরে গাবতলী গরু হাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি ও অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিনে হাজারীবাগ থেকে পথচারী শহিদুল্লাহ তোতা, বাড্ডার লিংকরোড থেকে গরু বেপারি মজিবর রহমান ও হাতিম আলীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া সোমবার পর্যন্ত মিরপুর রোড থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি, মহাখালী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি, মিজানুর রহমানসহ অন্তত ২০ জন অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।