মেহেরপুরে টর্নেডোতে ৩ গ্রাম লণ্ডভণ্ড, আহত অর্ধশত
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩২
মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল, দিঘীরপাড়া ও ঝাওবাড়িয়া গ্রামে টর্নেডোর আঘাতে আড়াই শতাধিক বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক লোক। ঝড়ের সময় হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওবেদ আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। গ্রামের অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙ্গে গেছে। সহস্রাধিক মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
রবিবার দিনগত রাত একটার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম কোন থেকে টর্নেডো আঘাত হানে চাঁদবিল গ্রামে। ২০/২৫ সেকেন্ডের মধ্যে গ্রামের হালদারপাড়া থেকে শুরু হয়ে মধ্যপাড়ার উপর দিয়ে পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত টর্নেডো ধ্বংসলীলা চালায়। বাইতুন নূর জামে মসজিদ ও হালদারপাড়া দুর্গা মন্দিরসহ দুই শতাধিক বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড করে দেয়। ঝড়ে ঘরচাপা ও গাছের ডাল পড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়। আহতদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ওই গ্রামের বড় বড় আমগাছ, তেঁতুল গাছসহ অসংখ্য গাছ-গাছালি উপড়ে ও ভেঙ্গে পড়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুত্ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়ির মালামাল ও খাবারসহ জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন হাজারো মানুষ। ক্ষেতের উঠতি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একইসময়ে ঝাউবাড়িয়া ও দিঘীরপাড়া গ্রামে টর্নেডোর তাণ্ডবে অর্ধশত বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড এবং অসংখ্য গাছ-গাছালির ক্ষতি হয়েছে। চাঁদবিল গ্রামের নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিকট শব্দে প্রচণ্ডবেগে আঘাত হানে টর্নেডো। মসজিদের দেয়াল ও টিনসহ আশেপাশের বাড়িঘরের ছাউনি ও গাছ-গাছালি উড়িয়ে নিয়ে যেতে দেখেন তিনি। মেহেরপুর দমকলবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার কথা বলেছেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদ হোসেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত রবিবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট ও নাচোল উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। রাতের ঝড়ে ভোলাহাটে ৪০টি ও নাচোলে অন্তত ৬০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে দুই উপজেলায় ২৭ হেক্টর আমবাগানের আমগাছ উপড়ে পড়েছে। ক্ষতি হয়েছে রোপা আমন ধানের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেঁপে ও কলাবাগান মালিকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো নাচোল উপজেলার মুসলিমপুর, ঘিয়ন, সাহাপুর ও পোলনগর এবং ভোলাহাট উপজেলার পীরগাছী ও ঘাইবাড়ী এলাকা। এইসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বসবাস করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী। উল্লেখ্য, পাইলিনের প্রভাবে গত ২ দিন থেকে জেলার সর্বত্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত ছিল। ঈদুল আজহার কেনাবেচা, হাটবাজার করতে পারছে না জনসাধারণ।