কষ্টকর মুখের ক্ষত:অ্যাপথাস

রাজ ডেন্টাল সেন্টার আমাদের মুখের মধ্যে যত ধরণের ক্ষত হয় তার মধ্যে “অ্যাপথাস” নামক ক্ষত সবচেয়ে বেশী হয়। সাধারণত: নির্দিষ্ট আকার ও বৈশিষ্টর কারণে সহজেই এই ক্ষতকে আলাদা করা যায়। ক্ষতিটির মধ্যবর্তী স্থান সাদা বা হলুদ বর্ণের আর চর্তুদিকে লাল স্পষ্ট সীমানায় আবদ্ধ, অত্যান্ত কষ্টকর ও বিরক্তিকর এই ক্ষত ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত থাকে। খুব কম সময় বিশেষ কোন কারণে এর মেয়াদ দীর্ঘ হতে পারে। যে কোন বয়সে, যে কারো অ্যাপথাস ক্ষত হলেও চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা এর কারণ সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে কোন তথ্য বলতে পারছেন না। তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই কিছু নির্দিষ্ট অবস্থার ধারাবাহিকতায় এই ক্ষতি তৈরী হয়। যেমন- ১. আঘাত: মুখের মধ্যে টুথ ব্রাশের আঘাত, নিজ দাঁতের কামড়ের আঘাত, শক্ত খাদ্য কনার আঘাত, ত্রুটিপূর্ণ কৃত্রিম দাঁত বা নিজ দাঁতের অমসৃণ অংশের আঘাত, দূর্ঘটনা থেকে আঘাত এর কারণে অ্যাপথাস হতে পারে। ২. ডেন্টাল চিকিত্সার অনিচ্ছাকৃত আঘাত। ৩. শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যেমন- দূর্বলতা, অপুষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এমন কি এইডস। ৪. অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা, দু:চিন্তা, পেটের অসুখ। ৫. মেয়েদের হরমোনাল তারতম্য। ৬. নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি যেমন- আয়রণ, ফলিক এসিড, ডিঙ্ক, ভিটামিন বি-১২ ইত্যাদি। আকারে খুব ছোট এই ক্ষত তালু, জিহ্বা, ঠোট, মাড়িসহ মুখের যে কোন স্থানেই হতে পারে। চিকিত্সা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাপথাস ক্ষতের জন্য কোন চিকিত্সার প্রয়োজন হয় না। তবে স্থায়ীত্ব দশ দিনের বেশী থাকলে ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে। বাসায় লবণ মিশ্রিত পানি দিয়ে কুলি করলে উপকার পাওয়া যায়। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও পানি সমপরিমাণে মিশ্রিত করে অথবা মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া ক্ষত স্থানে লাগালে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। আজকাল আমাদের দেশেই কষ্ট লাঘবের কিছু ওষুধও পাওয়া যায় যা ডেন্টাল সার্জনের পরামর্মে ব্যবহার করা যেতে পারে। যাদের মধ্যে অ্যাপথাস ক্ষত হওয়ার প্রবণতা থাকে তাদেরকে অবশ্যই নিজ মুখকে সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। যত্ন ও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখিত কারণগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য। কারণ শারীরিক বড় ধরণের ক্ষতি না করলেও এই ক্ষত বার বার হতে পারে। আর একটি বিষেয়ে ধারণা রাখতে হবে অ্যাপথাস এর জন্য এন্টিবায়োটিক সেবনের কোন সুফল নেই বরঞ্চ এ থেকে মুখে ছত্রাক সংক্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।