প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ

সহযোগী অধ্যাপক, ইউরোলজি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। চেম্বার:ঢাকা রেনাল এন্ড জেনারেল হাসপাতাল, ১৬১/এ, লেক সার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা প্রষ্টেট ওয়াল নাট আকৃতির ছোট ফাইব্রো মাসকুলার গ্লান্ড যেটা প্রস্রাবের থলির নীচের দিকে তলপেটে অবস্থিত। ইউরেথ্রা বা প্রস্রাবের নালী প্রস্রাবের থলি থেকে যে স্থানে বাহির হয় এটা সেখানে প্রস্রাবের নালী ঘিরে রাখে। প্রষ্টেট গ্রন্থি সারাজীবন বৃদ্ধি পেতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই বৃদ্ধির পরিমাণ বেশী হলে মূত্র নিঃসরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। প্রস্টেট গ্রন্থিতে সংক্রমণের কারণে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। পুরুষদের প্রষ্টেট গ্লান্ডের প্রদাহ রোগকে প্রস্টাটাইটিস বলা হয়। পুরুষদের যৌবনে পদার্পণ থেকে যে কোন সময় এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ব্যক্তি যাদের প্রোস্টেট বড় হওয়া জনিত সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশ অসুবিধার সৃষ্টি করে। রোগের ধরণ অনুসারে প্রোস্টাইটিসকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- একিউট ব্যাকটেরিয়াল প্রোস্টাইটিস (তীব্র ব্যাকটেরিয়া জনিত প্রদাহ), ক্রনিক ব্যাকটেরিয়াল প্রোস্টাইটিস (দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাকটেরিয়া জণিত প্রদাহ), নন ব্যাকটেরিয়াল প্রোস্টাইটিস (জীবানু বর্হিভূত প্রদাহ), প্রষ্টটোডিনিয়া, একিউট ব্যাকটেরিয়াল প্রোস্টাইটিস-এ রোগীর শরীরে ব্যথা বা ম্যাজ ম্যাজ ভাব, খুব জ্বর আসা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের জ্বালা যন্ত্রণা, শরীরে মূত্রথলি বরাবর জায়গায় ব্যথা, পায়ু পথ ও মেরুদন্ডের সর্বনিম্ন অংশ বরাবর ব্যথা, প্রস্রাবের শেষে দুই এক ফোঁটা রক্ত পড়া প্রভৃতি। বয়স্ক পুরুষ যাদের প্রষ্টেট গ্লান্ড বড় হওয়াজনিত সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ ছাড়াও হঠাত্ প্রস্রাব আটকে যেতে পারে। দৈহিক পরীক্ষায় রোগীর মূত্র নির্গমন পথে কোন সমস্যা আছে কিনা দেখা হয়। ডিজিটাল রেক্টাল এক্সামিনেশন-এ প্রোস্টেটে রোগী খুব ব্যথা অনুভব করে। প্রোস্টেটিক স্মিয়ার পরীক্ষা করা যেতে পারে, প্রোস্টেটাইটিস রোগের জটিলতা হিসেবে রোগীর টেসিটস বা অন্ডোকোষ ও এর উপরের অংশ প্রদাহ ছড়াতে পারে, যাকে বলা হয় ইপিডিমোঅরকাইটিস। এই রোগ নির্ণয়ের পর উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রয়োগ করা হয়। এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, রোগের লক্ষণ দূরিভূত হলেও সম্পুর্ণ কোর্স এন্টিবায়োটিক খেতে হবে। অন্যথায় আবার রোগ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। রোগীকে প্রচুর পানি খেতে হবে এবং স্ত্রীর সাথে মেলামেশা না করা বাঞ্ছনীয়। ক্রণিক ব্যাকটেরিয়াল প্রোস্টাটাইসি এ দীর্ঘদিন থেকে রোগীর ব্যথা থাকে। সাধারণত এই ব্যথা তলপেটে, টেসটিস বা অন্ডোকোষ-এ, দুই পায়ের মাঝখানে বা কখন কখন পিছন দিকে অনুভূত হয়। এই রোগ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। কারণ এর উপসর্গগুলো অধিকাংশই প্রোষ্টের সাথে সম্পৃক্ত থাকে না। এই রোগ নির্ণয়ের উল্লেখযোগ্য হলো ট্রান্সরেক্টাল আল্ট্রাসনোগ্রাম, প্রস্রাবের পরীক্ষা ও প্রস্টেটের রসের পরীক্ষা। পুরুষের সাথে সাথে তার স্ত্রীর কোন ধরনের সংক্রামণ আছে কিনা পরীক্ষা করা উচিত্। এইসব রোগীর ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়। এর সাথে সাথে প্রোষ্টেট মাংশপেশী শিথিল করে এমন ওষুধ এবং বেদনা নাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। নন ব্যাকটেরিয়াল প্রোষ্টটাইটিস সাধারণত- সি ট্রাকোমেটিস নামক এক ধরণের অনুজীব দ্বারা সংক্রমণের ফলে হয়। সাধারণত ইরাইথ্রোমাইসিন জাতীয় এন্টিবায়োটিক ৪ সপ্তাহ প্রয়োগ করা হয়। পুরুষের সাথে সাথে তার স্ত্রীরও পরীক্ষা করে দেখতে হয় যে কোন ইনফেকশন আছে কিনা। প্রোষ্টোডাইনিয়া হচ্ছে রোগীর প্রোস্টেট গ্রন্থিতে ব্যথা, রোগীর মূত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে না। মনে করা হয় যে একটি প্রষ্টেট মাংশপেশীর স্পাজম-এর ফল। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতির কারণে প্রষ্টেট মাস্ল-এ স্পাজম হতে পারে। এই ধরণের রোগীদেরকে ইউরোডাইনামি স্টাডি করা যেতে পারে। কোন ধরনের ইউরেথ্রাাল অবস্টক্সন ছাড়াই দেখা যায় এদের প্রস্রাবের ধারা কম। চিকিত্সা ক্ষেত্রে এদের মেন্টাল সাপোর্ট দেয়া অত্যন্ত জরুরী। প্রষ্টেট মাসল রিলাক্সেন্ট-ও ব্যথাা নাশক ওষুধ প্রয়োগ এদের ক্ষেত্রে ভাল ফল পাওয়া যায়। এটা মনে রাখা জরুরী যে প্রোস্টটাইটিস রোগ নির্ণয় বেশ কঠিন। তাই এই সমস্ত সমস্যা থাকলে তা সমাধানের জন্য ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।