ছুটি শেষে নতুন দিনের স্বপ্ন

দেশে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হোক বা না হোক, মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকলে মনে হতে বাধ্য—এসে গেছে নির্বাচন! সারি সারি বিশাল ছবিওয়ালা ব্যানারে ছেয়ে গেছে স্টেডিয়ামের ভিআইপি প্রবেশ দুয়ার। কোনোটা সেই ওপর থেকে লম্বা হয়ে নেমে এসেছে, কোনোটা বিশাল চওড়া হয়ে ঝুলছে। লাল, নীল, সবুজ; নানা রংয়ের বাহারে সবগুলো ব্যানার যেন প্রতিযোগিতা করে ডাকছে, আমাকে দেখো। তবে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এসব ব্যানারের সঙ্গে মাঠের খেলার কোনো সম্পর্ক নেই। ঈদের আগেই শেষ হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচনে সাংসদ নাজমুল হাসান পাপনের বিজয়ে এসব ব্যানার টানিয়েছেন, তার ভক্ত-অনুরাগী ও সংগঠকেরা! সবাই বিসিবিতে ‘নতুন যুগ’কে স্বাগত জানাচ্ছেন। এই নতুন যুগ ব্যাপারটা বিসিবিতে কী অর্থ বহন করে, সে নিয়ে গবেষণা হতে পারে। তবে মিরপুর স্টেডিয়াম ক্রিকেটীয় অর্থে আর একদিন বাদে, ২১ অক্টোবর থেকে সত্যিই এক নতুন যুগে ঢুকে পড়তে পারে। এই প্রথম সত্যি সত্যি বড় কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের বাস্তব স্বপ্ন নিয়ে এদিন থেকে মিরপুরে বাংলাদেশ শুরু করবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম টেস্ট চট্টগ্রামে বাংলাদেশের দিকে সামান্য হলেও হেলে থেকে ড্র হওয়ার পর এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন মুশফিকুর রহিমরা দেখতেই পারেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ তারিখ থেকে বাংলাদেশ দলের একজন খেলোয়াড়েরও জীবনে ‘নতুন যুগ’ শুরু হবে। চট্টগ্রামেই টেস্ট অভিষেক হওয়া মার্শাল আইয়ুব হোম অব ক্রিকেটে টেস্ট খেলা শুরু করবেন এদিন থেকে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরে ব্যাটিংয়ের মতোই সাবলীলভাবে মার্শাল জানিয়ে দিলেন, সিরিজ জিতে নতুন দিনের শুরু করার জন্য মুখিয়ে আছেন তারা। মার্শালের নিজের শুরুটাও বাংলাদেশেরই প্রথম টেস্টের অনুভূতির মতো হওয়ার কথা—সবই ভালো হয়েছে, শুধু ফলাফলটা পক্ষে আসেনি। টেস্টে ঠিক যেমন একটা শুরু মার্শালের মতো লম্বা ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আশা করা যায়, তাই খেলেই শুরু করেছেন। মোমিনুল হকের ১৮১ রানের মহাকাব্যকে অন্যপ্রান্ত থেকে অসীম ধৈর্য্য নিয়ে সমর্থন নিয়ে গেছেন। দুইনিংসেই দীর্ঘ সময় উইকেটে কাটিয়ে তিরিশোর্ধ করে রানের ইনিংস খেলেছেন। তারপরও নিদেনপক্ষে একটা ফিফটি না পাওয়ায় একটু আফসোস মার্শালের আছে। কাল অনুশীলন শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সেই আফসোসটা লুকালেন না মার্শাল, ‘প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর করার সুযোগ মিস করেছি বলতে পারেন। আমি চেষ্টা করছিলাম ভালো খেলার। কিন্তু সেট হয়ে যাওয়ার পরও সেভাবে বড় করতে পারিনি ইনিংসটা। চেষ্টা করবো সামনে আরো ভালো করার। সকাল সকাল খেলতে একটু সমস্যা হয়। সে সময় (প্রথম ইনিংসে, তৃতীয় দিনে) ভালো জায়গায় বল পড়ছে। একটু চাপে পড়ে একটা বাজে শট খেলছি। অনেক বাইরের বল ছিল।’ এই চাপে পড়ে যাওয়াটাকে অবশ্য সামগ্রিক অর্থে দেখতে চান না মার্শাল। গত বছর দেড়েক হয় ঘরোয়া ক্রিকেটে মার্শাল রীতিমতো রানমেশিনে পরিণত হয়ে এসেছেন জাতীয় দলে। ফলে অনুমান করা যেতে পারে, ঠিক ঘরোয়া ক্রিকেটের মতোই বড় ইনিংস খেলার জন্য তার ওপর একটা চাপ তৈরি হয়েছে। মার্শাল বলছেন, এমন কোনো চাপ তিনি টের পাচ্ছেন না। এমনকি টপ অর্ডারে প্রথম ইনিংসের ছোট ধসেও কোনো চাপ ভেতরে টের পাননি বলেই বলছেন, ‘না, আমার চাপ মনে হচ্ছে না। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলি সেভাবেই খেলেছি। সেখানেও শুরুতে উইকেট পড়ে যায় আমাদের চাপ নিয়েই খেলতে হয়। সেই পরিস্থিতি এখানেও হয়। আর বড় ইনিংস খেলার জন্যও আমার ওপর কোনো চাপ নেই। আমি চেষ্টা করছি স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার।’ তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের মতো খেলার চেষ্টা যতোই করুন, এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান এটা মানতে বাধ্য হলেন যে টেস্ট আসলেই ভিন্ন একটা ব্যাপার। ঘরোয়া ক্রিকেটের মতো ব্যাপারটা যে সোজা নয়, সেটা বেশ বুঝতে পারছেন এই দুই ইনিংসের অভিজ্ঞতা থেকে, ‘এমনিতে তো খেলার মূল ব্যাপারগুলো একই। তবে পার্থক্য হচ্ছে টেস্টে ভালো বোলারের সংখ্যা থাকে বেশি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বাজে বল অনেক বেশি পাওয়া যায়, এখানে বাজে বলের জন্য অনেক অপেক্ষা করতে হয়।’ মার্শাল খুব ভালো করে জানেন, এই অঙ্গনে সফল হতে হলে তাকে এই অপেক্ষার খেলায় জিততে হবে। আর ২১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে নিজের সেই জয়ের ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী তিনি। মিরপুর স্টেডিয়াম ১১ মাস পর দেখবে টেস্ট ক্রিকেট। আর মার্শাল অপেক্ষায় আছেন হোম অব ক্রিকেটে নিজের শুরুর। এমন উপলক্ষ নিশ্চয়ই মার্শাল বিফলে যেতে দেবেন না!