সোহাগের অন্যরকম ঈদ!

ক্রিকেটে ইতিহাস সৃষ্টিকারী সোহাগ গাজীর পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে এবারের ঈদ আনন্দ অনেকটা অন্যরকম। কথা হয় সোহাগের সাথে। ‘অন্যরকম আমেজ এবারের ঈদে। যা বলার মত নয়। ভালর উপরে যদি কিছু থাকে তা কাজ করছে এখন আমার মধ্যে। সবসময় পরিবারের সকলের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশ্বরেকর্ড গড়ার এই অর্জনের পর পিতা-মাতার সাথে ঈদ করার আনন্দ এ এক ভিন্ন অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করে বুঝানো যাবে না। আমার এই অর্জন আমার নয় দেশ ও জাতির অর্জন।’ এতবড় এক সাফল্যের পরও বদলায়নি তার স্বভাব-সুলভ স্বাভাবিক আচরণ। সোহাগ সকাল সোয়া ৮টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন শহরের কালিকাপুরের বাড়ির পাশে কলাবাগান বাবরী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে। বাসার কাছাকাছি এই মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ে সে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে। এখানে তিনি এলাকাবাসীর সাথে ঈদের নামাজ আদায় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। নামাজ আদায় শেষে ঈদ আলিঙ্গন করেন মুসুল্লীসহ বড় ও ছোট সকলের সাথে। এসময় কোলাকুলি করতে এগিয়ে আসে তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাট্রিকসহ ৬ উইকেট লাভের পর তার খ্যাতি বিশ্বজোড়া ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের কাছেও এবারের ঈদ আনন্দ এক ভিন্ন অনুভূতির। বাবা শাহজাহান গাজী ও মা হাচিনা বেগম যারপরনাই খুশী। বড় ভাই শাহিন গাজী ও একমাত্র বোন শাহনাজের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস। সেইসাথে গর্বিত এলাকাবাসীও। সোহাগ গাজীর পিতা মোঃ শাহজাহান গাজী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এলাকাবাসীর মধ্যে এত আনন্দ, আর পিতা হিসাবে আমার অনুভূতি কেমন হতে পারে তাতো আপনারাই বোঝেন। সোহাগের এই অর্জন এবারের ঈদে আমাদের পরিবারে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। তার এই বিশ্বরেকর্ডে শুধু আমরাই নই, গোটা দেশ ও জাতি গর্বিত। সোহাগ গাজী একসময়ের সাথী বন্ধুদের আহবান উপেক্ষা করতে পারেননি। এখানে বাড়িতে ঈদ করতে এসেও তাকে গত মঙ্গলবার নামতে হয়েছে ব্যাট হাতে এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে। বন্ধুরা তার সম্মানে এলাকার তরুণ ও ক্ষুদে ক্রিকেটারদের উত্সাহিত করতে শহরের সরকারি জুবিলী স্কুল মাঠে আয়োজন করে এই ক্রিকেট ম্যাচের। সোমবার গভীর রাতে পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে পৌঁছালে বন্ধু-বান্ধব ও ভক্ত-অনুরাগীরা সোহাগ গাজীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। এই রাতঅবধি পিতা-মাতা ও ভাই-বোন শহরের কলাতলার বাসায় অপেক্ষা করছিলেন সোহাগের জন্য। বাসায় পৌঁছার পর আনন্দ-আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। মিষ্টিমুখ করান সোহাগকে। পরদিন সকালে তরুণ ক্রিকেটারদের উত্সাহ যোগাতে ছুটে আসেন পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। ব্যাট হাতে মাঠে নামেন সোহাগ গাজী। বল তুলে দেন ক্ষুদে বোলারদের হাতে। ছন্দময় গতিতে তাদের বোলিংয়ের জবাব দেয় সে। মাঠভর্তি দর্শকরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানায়। এরপর সোহাগ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলা শেষে প্রেস কনফারেন্সেই প্রথম জানতে পারি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার কথা। নিঃসন্দেহে আনন্দিত হয়েছি জেনে। সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছি আমার নিজ এলাকা পটুয়াখালীর মানুষের ভালোবাসায়। তাদের আন্তরিকতায় আমি অভিভূত। এ স্মৃতি কোনদিনই ভুলবো না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্রিকেট ঘিরেই আমার স্বপ্ন। ভবিষ্যতেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমি আমার মেধা ও মনন মনোনিবেশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমি সকলের দোয়া চাই আগামীতেও যেন দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারি।’