বান্দরবানে মারমাদের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সব শুরু

বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উত্সব ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে শুরু হয়েছে। তিন মাস বর্ষাবাস থাকার পর পাহাড়ী মারমা সমপ্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সব পালন করে প্রতিবছর। মারমা সমপ্রদায়ের বিশ্বাস বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই এই পূর্ণিমার তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস বাতি। স্মরণ করা হয় বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে। ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ গো ক্রোছোবায়া পাঁইনা পাপকনা’ মারমা ভাষায় এই গানটির সুরলহরী তালে মাতাল হয়ে উঠেছে পার্বত্য জনপদগুলো। মারমা তরুণ-তরুণীদের মুখে মুখে শোভা পাচ্ছে এই গানের সুর। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সবের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ওয়াগ্যোয়াই’র উচ্ছলতায় প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে দাও। এবারও বান্দরবানে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সবকে ঘিরে ৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে স্থানীয় পুরাতন রাজবাড়ী মাঠ থেকে আকাশে ফানুস উড়ানোর মাধ্যমে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সব শুরু হয়েছে। উত্সব চলবে আরো চারদিন। উত্সব উদযাপন কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমা জানান, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উত্সব। এই উত্সবে আকাশে ফানুস উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়। এছাড়াও মঙ্গল প্রদ্বীপ প্রজ্বলন, পিঠা উত্সব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ এবং সবশেষে ময়ুর রথযাত্রা ও বিসর্জন। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে- রথযাত্রা। বিশাল আকৃতির ময়ুর তৈরি করে তার উপর একটি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করে রথটি টেনে টেনে পুরো শহর ঘূরিয়ে সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়। বন্য হাতির আক্রমণে কৃষক নিহত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্য হাতির আক্রমণে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত কৃষকের নাম মোহাম্মদ হোসেন (৪৯)। তার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের গুইন্যাকাটা এলাকায় বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার ভোরে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের গুইন্যাকাটা এলাকায় বন্য হাতির দল কৃষক মোহাম্মদ হোসেনকে আক্রমণ করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে কক্সবাজার নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমরান হোসেন জানান, গুইন্যাকাটা এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায়শ বন্য হাতির দল হানা দিয়ে ঘরবাড়ি এবং ফসলী বাগান ভাংচুর করে।