বদলে যাচ্ছে বাঙালির ছুটি কাটানোর ধরন

দেশি, বিদেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে আছে কক্সবাজারের ইনানী সি-বিচ। ঈদুল আজহা ও দুর্গা পূজার লম্বা ছুটি উপভোগ করার জন্য এখানে ছুটে আসছেন অসংখ্য পর্যটক। একইভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত পর্যটন স্পটগুলোতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সব মিলিয়ে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, বাঙালির ছুটি কাটানোর ধরন পাল্টে যাচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ঘুরে ঘুরে ঈদের ছুটি কাটানোর বদলে এখন সবাই সামর্থ্যের মধ্যে একটু ঘুরে ফিরে দেখতে চান। আমাদের উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, পাহাড় ও সাগরের এমন সম্মিলন বোধকরি ইনানী সি-বিচ ছাড়া বাংলাদেশের আর কোথায় নেই। সে কারণে সমুদ্র দর্শন ও সৈকতের বেলাভূমিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসছেন এই বিচে। তবে বিচ এলাকায় বাড়তি কোন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। এই বিচে থাকার কোন ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের কক্সবাজার থেকে দিনে এসে দিনে ফিরে যেতে হচ্ছে। মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে জমে উঠেছে স্বাধীনতার সুতিকাগার ঐতিহাসিক মেহেরপুরের মুজিবনগর। একই সঙ্গে তারা ঘুরে দেখছেন ঐতিহাসিক আম্রকানন। ঈদের পরদিন থেকে পর্যটকদের ভিড়ে কেদারগন্জ বাজার থেকে মুজিবনগর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পায়ে হেঁটে পর্যটকরা মুজিবনগর আম্রকাননের স্মৃতি সৌধ এক নজর দেখার জন্য যাচ্ছেন। রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীর পদ্মাপাড়সহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পদ্মার পাড়ের বড়কুঠি পার্ক, পদ্মা গার্ডেন, টি-গ্রোয়েন, শিমলা পার্ক, পুরান জিপিও সংলগ্ন আই বাঁধ, আলুপট্টি ও পঞ্চবটি শ্মশানঘাট সংলগ্ন আই বাঁধ, এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, শহীদ জিয়া শিশুপার্ক, ভদ্রা পার্ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তথা মতিহারের সবুজ চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত ভিড় ছিল মানুষের। বিশেষ করে রাজশাহীর পদ্মার ধার এখন যেন বিনোদন পিয়াসী মানুষের মিলনমেলা হয়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) বিনোদন স্পটগুলো সাজিয়ে আকর্ষণীয় করে তুলেছে । বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ প্রশাসন। কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, ঈদের ছুটিতে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে আনন্দ বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ হচ্ছে না কারো। অত্যাধিক পর্যটকদের চাপে জাতীয় উদ্যানের শান্ত নিবিড় পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। ফলে সচরাচর রাস্তার পাশে গাছে গাছে বানর ও উল্লুকের ছুটাছুটির যে দৃশ্য দেখা যায় তা আর দেখা যাচ্ছে না। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, দেশের দুই প্রধান নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত প্রাচীন জেলা কুমিল্লা। পর্যটকরা কুমিল্লার ধর্মসাগরপাড়, ময়নামতি জাদুঘর, শালবন বিহার, ময়নামতি ওয়ারসেমিট্রি, চিড়িয়াখানা, ইকোপার্ক, জগন্নাথ মন্দির, লালমাই পাহাড়, পাহাড় চূড়ায় চণ্ডিমুড়া মন্দিরসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী পাড়ি জমাচ্ছে কুমিল্লার পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারে। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় যাবতীয় আনন্দ উত্সাহ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ জেলার মানুষ। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় স্থানীয় বড় মাঠে আড্ডা দিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে হয় শহরের ও দূর থেকে ঈদ করতে যাওয়া মানুষকে।