ভালো দাম পাওয়ায় খুশি বিক্রেতারা

ঈদের পূর্বে দাম বেেঁধ দেয়ার ফলে অনেকটাই শৃংখলা বজায় ছিলো চামড়া কেনা-বেচায়। ভালো দাম পাওয়ায় বিক্রেতারা ছিলেন খুশি। তবে কিছু কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে চামড়া কিনে বিপাকেও পড়েছেন। বাংলাদেশে এবারের ঈদ উল আজহায় পশু কোরবানির মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা চলবে বলে ধারণা করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। গতবছর এই লেনদেন ছিল দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ জানিয়েছেন, গতবছর দাম নির্ধারণ করে না দেয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কম দামে চামড়া কিনে বেশি দামে বিক্রি করেছে। কিন্তু যারা মাঠ পর্যায়ে বিক্রেতা ছিলেন তারা সঠিক দাম পাননি। এই মৌসুমি ব্যবসায়ী কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য এবছর দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এবছর ঈদের আগেই দাম বেঁধে দেয় ট্যানারি মালিকদের তিনটি সংগঠন। তবে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলেও মান ভেদে গড়ে ১২শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় চামড়া কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৮৫-৯০ টাকায় এবং ঢাকার বাইরে ৭৫-৮০ টাকার মধ্যে কেনার জন্য দাম বেঁধে দেয়া হয়। আর সারাদেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ৫০-৫৫ টাকা, বকরির চামড়া ৪০-৪৫ টাকা এবং মহিষের চামড়া ৪০-৪৫ টাকা ঠিক করা হয়। গত বছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া গড়ে ৮৫ টাকা এবং খাসির চামড়া গড়ে ৫০ টাকা দরে কেনা হয়। গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে কোরবানি হওয়া পশুর চামড়ার মধ্যে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কেনা হয়েছে। আজ বিরতি দিয়ে আগামী কাল থেকে ৭ থেকে ৮ দিনের দিনের মধ্যেই দেশের অধিকাংশ চামড়া কেনা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতবছর ৬০ লাখের বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হলেও এবছর তা ৭০ লাখ ছাড়াবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবছর ভারতে রুপির মানের অবমূল্যায়নের কারণে এবং প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় গরু আসায় সে দেশে অধিকহারে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন তারা। সেজন্য সরকারের কাছে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। দেশের সীমান্ত এলাকার বাজারগুলোতে আগামী তিন মাস কড়া পাহারা দাবি করেছেন ট্যানারি মালিকরা। তা না হলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এবার প্রচুর মৌসুমী ব্যবসায়ী মাঠে নামায় অতিরিক্ত দামে তারা চামড়া কিনেছেন। গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা বর্গফুট হারেও কেউ কেউ কিনেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন ইত্তেফাককে জানান, চামড়ার মান সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী বেশি দামে চামড়া কিনে থাকতে পারেন, এর জন্য তারাই দায়ী। এক দিনের জন্য কয়েক লাখ মৌসুমী ব্যবসায়ী মাঠে নামে চামড়া কেনার জন্য। এর মধ্যে কেউ কেউ প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বেশি দামে চামড়া কিনে ফেলে। তবে ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চমড়া কিনেছেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ীই নির্ধারিত দামের মধ্যে থেকেই চমড়া কিনেছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় চামড়া পাচার অনেকটা কমে এসেছে। এ তত্পরতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার চামড়া এবং চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানি হচ্ছে। তবে কোরবানির সময়, চামড়া ছাড়ানোতে অদক্ষতা ও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর কয়েকশো কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।