জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ মন্ত্রিসভায় নাম দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
সব দল নিয়ে নির্বাচনী সরকার গঠনের প্রস্তাব
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০৭
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে সর্বদলীয় সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের প্রতি এই প্রস্তাব দিয়ে বলেন, আমরা সকল দলকে সঙ্গে নিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চাই। বিরোধী দলের প্রতি তাদের দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রী সভার সদস্য করার জন্য নাম আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে সকল সন্দেহ দূর করে সুষ্ঠু নির্বাচন করা হবে যাতে জনগণ তাদের পছন্দমত সরকার গঠন করতে পারে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি এই আহ্বানে সাড়া দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী সরকারের এই সদিচ্ছার মূল্য দেবেন।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোমা মেরে, আগুন জ্বালিয়ে জনগণের জান-মালের ক্ষতি করবেন না। কোরান শরীফ পুড়িয়ে, মসজিদে আগুন দিয়ে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা বন্ধ করুন। মাদ্রাসায় বোমা তৈরির কাজে ব্যবহার করে এতিম বাচ্চাদের লাশ বানাবেন না। নিরীহ পথচারী আর গরিব বাস ড্রাইভারকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারবেন না। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনোই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অনুমোদন দেয় না। যারা নির্দোষ মানুষকে ধর্মের নামে হত্যা করে তাদের চূড়ান্ত ঠিকানা হবে দোজখ।
কাজেই ছুরি, দা, খন্তা, কুড়াল নিয়ে মানুষ মারার নির্দেশ প্রত্যাহার করার জন্য বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তি ও ঐক্যের পথই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। জনগণের ওপর আস্থা রাখুন, সন্ত্রাসের পথ পরিহার করুন। আপনারা কি চান-তা সংসদে এসে বলুন। আলোচনা করুন। আলোচনার দরজা সবসময় আমাদের পক্ষ থেকে উন্মুক্ত আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধী দলীয় নেত্রীকে সংলাপে ডেকেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তার জবাবে তিনি আলটিমেটাম দিয়ে বললেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমাকে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশছাড়া করবেন। ৪, ৫ ও ৬ মে’ মতিঝিল শাপলা চত্বরের ধ্বংসযজ্ঞ জাতিকে আতঙ্কিত করেছিল। আমরা সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছি, নিরাপত্তা দিয়েছি।
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব দিয়ে আবার তা প্রত্যাহার করে নেয়া প্রসঙ্গে প্রধামন্ত্রী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব দেয়া হয়। যখন আমরা আলোচনায় রাজি হলাম, তখন তারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিলেন। একবার বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আরেকবার নির্দলীয়, আবার বলছেন হাসিনামুক্ত। নানা অবাস্তব কথা তারা বলে যাচ্ছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে জাতীয় সংসদে আবারো মুলতবি প্রস্তাব দিন। সুস্পষ্টভাবে বলুন আপনারা কি চান।
নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমান নির্বাচন কমিশন গঠন করার আগে সকল রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় করেছিলেন। বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি নেত্রী সেই সংলাপে যোগ দিয়েছিলেন। সবার পরামর্শক্রমেই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৭৭ টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেছে। কোনো নির্বাচনেই সরকার হস্তক্ষেপ করেনি। অনেক নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে ইনশাল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৭২ এর ১ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ‘সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৩ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয় উল্লেখ আছে। ৩ এর (ক) দফায় বলা আছে, ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং (খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে। ২৫ জানুয়ারি বর্তমান সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর থেকে নব্বই দিনের হিসাব শুরু হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নিকট প্রধানমন্ত্রীর দেয়া লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নব্বই দিনের মধ্যে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য আমি সব দলের সাথে, বিশেষ করে মহাজোটের সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতিকে যথাসময়ে লিখিত পরামর্শ দেবো। এক্ষেত্রে তিনি বিরোধী দলের কাছেও পরামর্শ আশা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে অনেক খেলা হয়েছে। এদেশের মানুষ গত ৩৮ বছরে প্রতিটি নির্বাচনের সময় অশান্ত পরিস্থিতি, হিংস্রতার তাণ্ডব দেখেছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই ২০০১ সালে সফলভাবে মেয়াদ পূর্তির পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ আর হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা চায় না। তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উন্নত জীবনই আমার জীবনের একমাত্র কাম্য। এ সময় তিনি বিরোধী দলীয় নেতাকে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, সংঘাতের পথ পরিহার করে সমঝোতার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ করি। দেশ ও জাতির কল্যাণের স্বার্থে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরো সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করি। যাতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম একটি সুন্দর সমাজ পায়।
একটি সুন্দর সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ আমরা সকলে মিলে গড়ে তুলতে পারি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সকল ভেদাভেদ ভুলে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত আধুনিক এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আজ ১৮ অক্টোবর। শেখ রাসেলের জন্মদিন। ৭৫’র ১৫ আগস্ট যখন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়; তখন আমার ছোট্ট ভাইটিকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এবং আমার ছোট বোন রেহানা ওই দিন মা, বাবা, ভাই, ভ্রাতৃবধূ, আত্মীয়-স্বজন সব মিলিয়ে ১৮ জন পরিবারের সদস্যকে হারাই। মানুষ একটা শোক সইতে পারে না। যদি আপনাদের কোন আপনজনের মৃত্যু হয়, আপনারা জানেন সেই ব্যথা কতো কঠিন। পরিবারের সকল সদস্য হারিয়েও সেই শোক-ব্যথা বুকে নিয়ে শুধুমাত্র আপনাদের জন্য, এদেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কারণ আমার পিতা এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসেছেন এবং এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্যই তিনি তার জীবন দিয়ে গেছেন। তার একটাই স্বপ্ন ছিল যে, বাংলাদেশ হবে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে এটাই ছিল তার স্বপ্ন। তাই আজ আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই। যে গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, তা যেন যথাযথভাবে পালন করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে যেন উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ছোট্ট ভাইটি যার কোন অপরাধ ছিল না, মাত্র ১০ বছরের একটি শিশু তাকেও ঘাতকের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছিল। আমি তার জন্য আপনাদের কাছে, আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই। দোয়া করবেন।
প্রধানমন্ত্রী সবাইকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এবার আনন্দমুখর পরিবেশে দেশবাসী ঈদুল আজহা পালন করেছে। কয়েকদিন আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। তাদের শুভেচ্ছা জানাই। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উত্সব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষেও তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সকল সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা দেশবাসীর আনন্দ-উত্সবকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আগামীতেও তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একইভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং নির্যাতিত মা-বোন সকলকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গণতন্ত্রকে একটি সুদৃঢ় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হবে যখন তা সাংবিধানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে ১/১১-এর মতো কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকের উপর চেপে বসে তখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-ছাত্র-পেশাজীবী, ব্যবসায়ীসহ সবার উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। এ ধরনের অসাংবিধানিক শাসনের পুনরাবৃত্তি আর কখনোই হবে না—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে যে আস্থা এবং বিশ্বাস আমাদের উপর রেখেছেন আমরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের সেই আস্থা এবং বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কৃষি, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুত্, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন খাতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা সারা বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছে। নিম্নবিত্ত মানুষ দারিদ্র্যের শৃংখল থেকে বের হয়ে মধ্যবিত্তের কাতারে উঠে আসছে। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে একজন দিনমজুর সারাদিনের পরিশ্রম শেষে দুই কেজি চাল কেনার মতো মজুরি পেতো না। আজ তারা মজুরির টাকায় ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কিনতে পারছে। তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। প্রাথমিক থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ১ কোটি ১৯ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি ও উপ-বৃত্তি দেয়া শুরু হয়েছে।
বিদ্যুতের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময়ে দেশে ছিল বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। আমরা আপনাদের কষ্ট দূর করেছি। দেশে এখন বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতা ৯ হাজার ৭১৩ মেগাওয়াট। মোট জনগোষ্ঠির ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধা পাচ্ছে। আপনাদের সমর্থন নিয়ে আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেবো ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৪ ডলারে উন্নীত করেছি। প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের উপরে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি ১১ ভাগ থেকে কমিয়ে ৭/৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করে বর্তমানে ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, রোজার মাসে খাদ্যপণ্যের দাম কমিয়েছি। এবারের ঈদে কোরবানির পশুর দাম ক্রয়ক্ষমতার আওতায় ছিল। তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে পবিত্র হজ্ব পালনের ব্যবস্থা করেছি। যারা হজ্ব সম্পন্ন করেছেন তাদের মোবারকবাদ জানিয়ে তিনি মহান আল্লাহতালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে যে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের কারণে নিন্দিত ও সমালোচিত হতো, লজ্জায় আমাদের মাথা হেট হয়ে যেতো। তখন হাওয়া ভবন নামে সরকারের ভিতরে আরেকটি সরকার এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। অথচ সেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে সারাবিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি।