আলোচনার দরজা খুলে দিল সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব আলোচনার বন্ধ দরজা খুলে দিল। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ প্রস্তাব নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিরোধীদল এবং সরকারি দলের অবস্থান কি রূপ হবে এবং এ সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে দুই দল আলোচনা করতে পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন সরকার পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে বিরোধী দল এবং সরকারি দলের মধ্যে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। খোদ জাতিসংঘ থেকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দু’দলের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সে চেষ্টা এখনও সফল হয়নি। প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান উভয় দল থেকে সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন মহল থেকে কয়েকটি ফর্মূলা দেয়া হয়েছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকেও উভয় দলের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ড. আকবর আলী তার প্রস্তাবে বলেছিলেন, উভয় দল থেকে পাঁচজন করে নিয়ে এবং আলোচনার ভিত্তিতে একজনকে সরকার প্রধান গঠন করা যেতে পারে। ওই সরকারের প্রধান সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও হতে পারেন কিংবা সংসদের একটি আসনে সকলের নিকট আস্থাভাজন কাউকে নির্বাচিত করেও নিয়ে আসা যেতে পারে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেই একটি মীমাংসায় আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) সংক্রান্ত মামলার রায়ে বলা হয়েছিল আগামী দুই মেয়াদ সংসদ চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে। তবে ওই সরকার গঠিত হতে হবে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে। গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ত্রয়োদশ সংশোধনীর আলোকেই হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শুধু সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ সরকারের আকার কি রূপ হবে এবং এ সরকারে বিরোধী দল এবং সরকারি দলের কতজন সংসদ সদস্য নেয়া হবে এবং ওই সরকারের প্রধান কে হবেন তা প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তাছাড়া সংসদ বহাল রেখে না বাতিল করে নির্বাচন হবে তা নিয়েও তিনি স্পষ্ট করেননি। যদিও ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তিনি রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙ্গে দিতে অনুরোধ করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের সূত্র ধরে এখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।