দলীয় ফোরামে আলোচনা করে বিএনপি বক্তব্য দেবে আজ

নির্বাচনকালীন সময়ে ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সে সম্পর্কে আজ শনিবার দলীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি, দলীয় ফোরামেও এনিয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর যথাসময়ে আমরা বক্তব্য তুলে ধরবো।’ আজ শনিবারই এই বক্তব্য তুলে ধরা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এদিকে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেয়ার আগে গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২৫ অক্টোবরের জনসভাকে সামনে রেখে সরকার দেশে ‘সংঘাত সৃষ্টির ষড়যন্ত্র’ করছে। ‘বিএনপি সংসদে প্রস্তাব দিলে সংলাপ হতে পারে’- বুধবার ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, সংলাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক নন। তিনি নির্দলীয় সরকার চান না। বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চান। সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ২৪ অক্টোবর সংসদে অধিবেশন শেষ হবে। তা থেকেও এখন তিনি সরে গেছেন। আমরা মনে করি, সংলাপের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। বিএনপি সংসদে নির্দলীয় সরকারের কোনো প্রস্তাব দেবে না বলেও জানান তিনি। ‘খোকার বক্তব্য রাজনৈতিক’ দা-কুড়াল, বল্লম ও লাঠি নিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার জন্য সাদেক হোসেন খোকা যে আহ্বান জানিয়েছেন, সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পলিটিক্যাল রেটোরিক বলে একটা কথা আছে। খোকা সাহেব বলেছেন, অতীতের মতো যদি আঘাত করা হয় তাহলে আত্মরক্ষার্থে জবাব দেয়া হবে। এটি খোকার পলিটিক্যাল রেটোরিক।’ তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা প্রতিনিয়ত বলছেন, রাস্তায় বিরোধী দল দাঁড়ালে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দেবে। ঘরে ঘরে গিয়ে হত্যা করা হবে। মন্ত্রীদের এসব হুমকির কথা তো গণমাধ্যমে সেভাবে প্রকাশ পায় না। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই ভাষণে যেহেতু জাতীয় নির্বাচনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, সেহেতু জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রেসিডিয়াম সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে অনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া খুব শিগগিরই ব্যক্ত করবে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশবাসীকে হতাশ করেছে। কারণ, আগামী নির্বাচন কার অধীনে হবে, এটা জানাই ছিল দেশবাসীর প্রত্যাশা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এ ব্যাপারে কোন কথা বলেননি। কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশের মানুষ তাকে (প্রধানমন্ত্রী) নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার প্রধান হিসেবে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু তার বক্তব্য গ্রাম্য প্রবাদের মতোই- বিচার মানি তালগাছটা আমার। তিনি ভালো করতেন, যদি বলতেন, সুষুম নির্বাচনের স্বার্থে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছি। সিপিবি কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার যে প্রতিবন্ধকতা তা এখনো কাটেনি। যে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল সেগুলো সমাধানের কোন কথা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হবে কিনা, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কিনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে কিনা এ বিষয়গুলো কিভাবে সমাধান হবে তা তিনি বলেননি। তিনি বলেন, সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে কমিউনিস্ট পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে না। শুধু কমিউনিস্ট পার্টির অংশগ্রহণ দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করে না। আগামী ২৬ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের মাধ্যমে কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। আর আওয়ামী লীগকে দুই বছরের জন্য তত্ত্ববধায়ক সরকারের বিষয়টি ছাড় দিতে হবে।