গল্প নয় সত্যি

বিধিনিষেধে দক্ষতা কমে!

হয়তো বড় কোনো অফিসের হর্তা-কর্তা আপনি। কিংবা এর ঠিক উল্টোটা হিসেবে কোনো একটা অফিসে তার অধীনস্থ হয়ে কাজ করছেন। তবে অফিসে আপনার পদ বা পদবী যাই হোক না কেন নানা ধরনের অফিসিয়াল বিধিনিষেধের কথা হয়তো আপনার বেশ ভালোই জানা। অফিসের কর্মীদের শৃঙ্খলার মাঝে রাখতে এবং তারা যেন সঠিকভাবে সবাই একই নিয়মের অধীনে থেকে প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারেন তা নিশ্চিত করতেই নানা সময়ে আরোপ করা হয় এ ধরনের বিধিনিষেধগুলো। যদিও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত বিচারে প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না বলেই দাবি করেছেন আমেরিকার খ্যাতনামা দুই বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। নিয়ম মেনে অফিসে আসা এবং অফিস সময়ে অফিসের কাজ করার মতো আর দশটা স্বাভাবিক নিয়মের সমালোচনা না করলেও যেসব অফিসে কর্মীদেরকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকতে হয় সেসব অফিসের উত্পাদন দক্ষতা বা সৃজনশীলতা নিয়ে কথা বলেছেন এই গবেষকরা। অধ্যাপক ক্ল্যাটন ক্রিশারের নের্তৃত্বে কাজ করা এই গবেষকরা তাদের গবেষণায় দেখেছেন যে, কোনো কিছু করার জন্য কর্মীদেরকে বাধ্য করা হলে পক্ষান্তরে সাফল্যের সম্ভাবনাই কমে যায়। তারা আরও জানান, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ একদিকে যেমন অফিস কর্মীদের মৌলিক দক্ষতা ও সামর্থ্য হূাস করে তেমনি তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর এসব কিছুর ফলে চূড়ান্ত বিচারে ক্ষতির পাল্লা ভারী হয় প্রতিষ্ঠানের দিকেই। এদিকে শুধু বিধিনিষেধের কুফল বর্ণনাই নয়, বরং একই সাথে এটি থেকে উত্তরণের পথও বাতলে দিয়েছেন এই গবেষকরা। তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের উত্পাদনশীলতা বাড়াতে এবং তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা তৈরি করতে চাইলে কাজের পরিবেশে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং কর্মীরা যেন আন্তরিকভাবে তাদের শ্রমটুকু দিতে পারেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে।