বোনাস শেয়ার দিয়ে মূলধন
বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৮
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বোনাস শেয়ারেই ঝোঁক বেশি। বোনাস শেয়ার দেয়ায় কোম্পানিগুলোর মূলধনের আকার বড় হচ্ছে। কিন্তু সে হারে মুনাফা না বাড়ায় ধীরে ধীরে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কমে যাচ্ছে। ফলে বছর বছর তাদের লভ্যাংশের হারও কমে যাচ্ছে। তবে লভ্যাংশ কমে যাওয়ার পেছনে গ্যাস-বিদ্যুত্ সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও দায়ী। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রবণতা কম হলেও বাংলাদেশে বোনাস শেয়ার দিয়েই দায় সারতে চাচ্ছে কোম্পানিগুলো। নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা খুব কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ কোম্পানিই বছরশেষে বোনাস শেয়ার দেয়। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদেরকে শেয়ারের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজ ধরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে না। এদিকে বোনাস শেয়ার দেয়ার পর বাজারে শেয়ারের যোগান বেড়ে যাওয়ায় দর কমে যাচ্ছে। ফলে শেয়ার পেয়ে লাভবান হতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। এদিকে শেয়ার ধরে রেখেও লাভ হচ্ছে না। কারণ কোম্পানিগুলো মূলধন বাড়ালেও সে হারে মুনাফা বাড়ছে না। ফলে শেয়ার প্রতি মুনাফা কমে যাচ্ছে। এতে বছরশেষে শেয়ার ধরে রেখেও লাভ কমে যাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যাংকিং খাতের ৩টি প্রতিষ্ঠান বাদে অবশিষ্ট প্রায় ২৭টি কোম্পানিরই স্টক ডিভিডেন্ড দেয়ার ঝোঁক বেশি। আর এসব কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার হারও গত তিন বছরে কমেছে। কিন্তু যেসব কোম্পানি নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে, তাদের লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। একই চিত্র দেখা গেছে অন্য খাতগুলোতেও। তবে ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুটি কোম্পানি বাদে এ খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা বেশি। এ কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ দেয়ার হারও স্থিতিশীল। এদিকে লভ্যাংশ হিসেবে বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রবণতা বেশি হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। কারণ এ ব্যাপারে আইনগত কোনো বিধি-নিষেধ নেই। বিএসইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে আইনগত বিধি-নিষেধ আরোপ করার সুযোগ নেই। তবে কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগকারী বান্ধব হয়ে উঠতে হবে। নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা বাড়াতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন। তবে যদি মূলধন বাড়িয়ে কোম্পানিগুলো লাভজনক কার্যক্রম বাড়াতে পারে তবে তা খারাপ হবে না।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানিগুলো ব্যাংক ঋণ নেয়ার পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে ব্যবসা চালাচ্ছে। এতে করে বছরশেষে সুদও দিতে হচ্ছে না। কোনো টাকাও গুণতে হচ্ছে না। বোনাস শেয়ার দেয়ার মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বাড়াচ্ছে। এতে কোম্পানির কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। উপরন্তু বাড়ছে মূলধন। কিন্তু মূলধন বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়ছে না কোম্পানির আয়। তাই বোনাস শেয়ার দেয়া হলে কোম্পানির আয় বাড়ানোর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এদিকে বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব কোম্পানি সাধারণত লভ্যাংশ হিসেবে বোনাস শেয়ার দিয়ে থাকে, তাদের মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা কম। আর যারা নগদ লভ্যাংশ দেয় তাদের বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রবণতা কম। তাছাড়া ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতাও বেশি।
স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা বলছেন, কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ কমে যাওয়ার বড় কারণ হলো- গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এসব কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ায় লভ্যাংশ কমে যাচ্ছে। তবে নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রবণতাও কমানো উচিত বলে মনে করেন তারা।