চট্টগ্রামে বিনোদন কেন্দ্রে
দর্শনার্থীদের ভিড়
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৮
চট্টগ্রামে বিনোদন কেন্দ্র ও পার্কগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্যণীয়। নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও পার্কগুলোতে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কিছুটা বিনোদন পেতে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি গত তিনদিনেও কমেনি। শহরের ভ্রমণ বিলাসীদের অনেকে আবার কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পাড়ি জমিয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরের ফয়’স লেকস্থ কনকর্ড এমিউজমেন্ট পার্ক বিভিন্ন আধুনিক রাইডারসমূহ নিয়ে টিলা ঘেরা আকর্ষণীয় স্থান। নগরীর শিশু-কিশোরসহ নারী-পুরুষদের স্রোত প্রবাহের কমতি নেই ফয়’স লেকে। অনেকে আবার ফয়’স লেক এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রামের একমাত্র চিড়িয়াখানায়ও ঘুরে আসে। এই চিড়িয়াখানায় প্রথম দিকে যে সকল বিচিত্র ধরনের পশু-পাখি দেখা গেলেও বর্তমানে তা নেই। এক প্রকার শ্রীহীন এবং স্বল্পসংখ্যক পশু-পাখি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিড়িয়াখানাটি। তারপরও ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের বায়নার কারণে অনেকেই যাচ্ছেন চিড়িয়াখানায়। ঈদ পরবর্তী গত তিনদিন দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেশি।
স্বাধীনতার ঘোষণার স্থান হিসেবে পরিচিত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র সংলগ্ন মিনি বাংলাদেশ খ্যাত স্বাধীনতা পার্কেও লোকজনের উপস্থিতি ব্যাপক। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত স্বাধীনতা পার্কের রাইডগুলোও সেই পুরনো হলেও এটি অন্যান্য বিনোদন পার্কের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। বিরাট এলাকার এই পার্কেই বাংলাদেশের এবং পূর্ববর্তী ব্রিটিশ-পাকিস্তানের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানসমূহের মডেল রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে গড়ে উঠা এই মিনি বাংলাদেশকে দেখার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকেও লোকজন এখানে ছুটে আসে। কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্র সৈকত দেখতে না পারলেও চট্টগ্রাম শহর সংলগ্ন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে গিয়ে সমুদ্র দেখার আকাঙ্ক্ষা কিছুটা পূরণ করা যায়। সমুদ্র দেখার সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা দেশি-বিদেশি ছোট-বড় জাহাজ দেখার বাড়তি আনন্দও উপভোগ করা যায়। কিন্তু সেই পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা দোকান-পাট সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দকে ম্লান করে বৈকি। এরপরও সমুদ্রের সেই মুক্ত বাতাস এবং সূর্যাস্তের ক্ষণে উপস্থিত হতে ছুটে যায় সর্বস্তরের মানুষ।
চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র জিয়া যাদুঘর ও তত্সংলগ্ন শিশু পার্কেও তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী লোকজনের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে গত কয়েকদিন ধরে। স্বল্প পরিবেশের এই শিশু পার্কটির মধ্যে রাইডের তুলনায় দোকান-পাটের সংখ্যাও কম নয়। তাই প্রকৃত বিনোদন কেন্দ্র বলতে যা বুঝায় এতে তার অনেক কমতি রয়েছে। এরপরও শহরের একেবারে কেন্দ্রে থাকায় অনেকে তাদের ছোট্ট মণিদের নিয়ে আসেন।
নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ সংলগ্ন কর্ণফুলী শিশু পার্কটি পুরনো স্বল্পসংখ্যক রাইড নিয়ে পরিচালিত হলেও ঈদের ছুটিতে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজনের উপস্থিতি ছিল অন্য সকল সময়ের তুলনায় বেশি। তবে এখানে আসা লোকজনের বিরাট অংশ বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি সম্বলিত ওয়ার সিমেট্রি দেখতেও বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে দেখা যায়। অনেকে আবার নগরীর সন্নিকটে আনোয়ারার পার্কি সমুদ্র বীচ ও এলাকায় ঈদের ছুটিতে বেড়াতে দেখা যায়। এক কথায় নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্ত হয়ে সামান্য বিনোদন পেতে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নগরবাসীর এক বিরাট অংশ শহর ও সংলগ্ন বিনোদন কেন্দ্রসমূহে ঈদের ছুটিতে ছুটে বেড়াতে দেখা যায়।