পথে-ঘাটে

- শেখ হাসিনা যে প্রস্তাব দিছে তাতে খালেদা জিয়ারে নির্বাচনে যাইতেই হইবো। না যাইয়া পারবো না। - আরে ভাই এটাও একটা চাল হইবার পারে। নির্বাচনে আইনা ফালাইয়া দিব। - আরে ভাই সব ঠিক হইয়া যাইবো। - কিছুই হইবো না। হাসিনাই আবার থাকার লাইগা সব করতাছে। সায়েদাবাদ থেকে কমলাপুর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে মহাখালীর দিকে যাচ্ছিল ‘বলাকা’। গতকাল শনিবার ছিল ঈদের পরে প্রথম বেসরকারি অফিস খোলার দিন। রাস্তা ছিল একেবারেই ফাঁকা। তখন বিকাল। সাঁই সাঁই করে গাড়ি ছুটছে। যাত্রীর চাপও কম। তাই কথা বলার সুযোগ বেশি। রাস্তা নিরিবিলি হলেও গাড়ির মধ্যে বেশ সরব সবাই। যে যার মত কথাগুলো বলছিল যার যার সিটে বসে। কেউ উত্তেজিত কেউ শান্তভাবে বলছে কথা। কথা শুরু হয়েছিল ঈদের বকশিস নিয়ে। গাড়ির হেলপার একটু বেশি ভাড়া দাবি করলেই শুরু হয় কথা। প্রথমে এক যাত্রীর সাথে হেলপারের। পরে হেলপার ছাড়িয়ে যাত্রীতে যাত্রীতে। আর সেই আলোচনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গিয়ে থামে। যখনই রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়, তখনই গরম হয়ে উঠে আলোচনা। মৌচাক পার হয়ে গাড়ি জোরে ঝাকি খায়। সাথে সাথে চিত্কার করে ওঠেন এক যাত্রী। রাস্তার যা হাল। কিছুই করেনি কেউ। সাথে সাথে প্রতিবাদ, আরে দেখেন না। ফ্লাইওভার হইতাছে। এসব কাজ করতে গেলে রাস্তা একটু তো ভাঙ্গবোই। - দিন আইতাছে। তহন বোঝোন যাইবো। কে থাকবো আর কে ভাঙ্গবো। গাড়ির পেছন থেকে নরম সুরে বলে উঠলো একজন। - হ। এইবার গণ্ডগোল লাগলে আর ছাড়বো না। - আরে দেখেন না কি হয়। আজ তো আবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিএনপি সুবিধা করতে পারবে না খুব একটা। আওয়ামী লীগ নিজেই সব ব্যবস্থা করবে। - আরে রাখেন রাখেন। যতটা করবার লাগছে ততটা পারতো না। - আরে ভাই শেখ হাসিনা কালকে সবাইকে নিয়ে মন্ত্রিসভা করার প্রস্তাব দিছে, আর আজ আবার মাঠে নামা নিষেধ করলো। তাহলে কি হলো? একদিকে প্রস্তাব দিলো সবাইকে নিয়ে চলার, অন্যদিকে ঘরে বন্দী। দুই নীতি তো আর চলতে পারে না। আপনি দলের নেতাদের ঘরে বেঁধে বলবেন নির্বাচনে আসেন, তাতো হবে না। আওয়ামী লীগ তাই করতে যাচ্ছে। - এবার আমেরিকা ইউনূসরে আনবো। নতুন একজন যোগ দিল আলোচনায়। - নারে না। ভোটের মাঠে ইউনূস কিছুই পারবে না। - তার তো আবার বিদেশি কানেকশন ভালো। ঐসব করে যদি একটা কিছু করতে পারে। - তখন আবার হাসিনা খালেদা এক হয়ে যাবে। - এখন ফ্যাক্টর হবে এরশাদ। - এরশাদ চাচার বেল নেই। হেই পোলটি মারবো সুবিধা বুইঝা। - তবে হাসিনা যুদি ইউনূসরে সাথে লইতে পারে। হ্যারে কইবো তোরে রাষ্ট্রপতি কইরা দিমু। ব্যাস। তাইলে আর বিএনপি পারতো না। জামায়াত মরণ কামড় দিবো যদিও, তবু পারতো না। - ঠিকমতা ইলেকশন হলে আর কিছুই লাগবে না। বিএনপি ঠিকই ক্ষমতায় আসবে। আর যদি এখন তারেক জিয়া দেশে আসে তো আওয়ামী লীগের খবর আছে। মানুষ সব তারেকের পিছনে ছুটবে। - সে দিন এখন আর নেই। মানুষ অত পাগল না। - আরে বাংলাদেশে কোন সরকার পর পর দু’বার থেকেছে? যেই লংকা যায় সেই হয় রাবন। ঐ বিএনপিকে আনলেও আবার দেশটারে আরো খারাপ দিকে নিয়ে যাবে। যারা আছে তারা থাকাই ভাল। - এবার যে একটা প্যাঁচ লাগবো নাহ। আর্মি আবার আইবো। আবার একটা গণ্ডগোল হইবো। আলোচনা চলতে থাকে। যাত্রী উঠে যাত্রী নামে। কথা বলার ঢেউ থাকলেই হয়। একজনেরটা আরেকজন রিলে করে নিয়ে চলে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্র। আর আলোচনার মূল বিষয় আসন্ন নির্বাচন। নির্বাচন হবে নাকি হবে না। হলে কিভাবে হবে। রাজনৈতিক কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা তো আছেই। আলোচনা আছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। সবার একটাই দেখার অপেক্ষা- কি হবে আগামী কয়েক দিনে?