সিটি করপোরেশন হার্ডলাইনে ১০ হাজার প্রভাবশালী চিহ্নিত
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী,সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:১২
প্রবাসী অধ্যুষিত বিভাগীয় সিলেট নগরীর অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে এবার হার্ডলাইনে সিটি করপোরেশন। আর এই জলাবদ্ধতার জন্য নগরীর ১০ হাজার প্রভাবশালীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ছড়াগুলো ছিলো নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান উপায়। একসময় এসব ছড়া দিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টির পানি নেমে যেত; কিন্তু দখলের কারণে অনেক স্থানে ছড়াগুলোর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় এই নগরী। অথচ নগরীর পাশেই বহমান সুরমা নদী।
গত কয়েক যুগ থেকে বলতে গেলে এ সমস্যাটি স্থায়ী রূপ নিয়েছে নগরীতে। বৃষ্টি হলেই নগরীর বাসিন্দারা প্রমাদ গুনেন। ঘরে না হয় উঠানে বৃষ্টির পানি উঠবেই। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার রান্না ঘর বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, রাস্তা, বিপণী বিতান ডুবে একাকার হয়ে যায়। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ীঘর তখন বসবাসকারীদের জন্য হয় পীড়াদায়ক। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতেও সময় লাগে এক থেকে দেড় দিন। এক সময় এই সমস্যাটি ছিল কেবল নিচু এলাকায়। সময় যতই গড়াচ্ছে সমস্যাটি তীব্রতর হচ্ছে। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর এক-তৃতীয়ংশ এলাকা ডুবে যায়।
সিলেট নগরীর এই জলাবদ্ধতা নিয়ে বর্ষা মৌসুম এলেই বয়ে যায় প্রতিশ্রুতির বহর। কম-বেশি বরাদ্দও আসে সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে; কিন্তু বর্ষা শেষে আবার যেই-সেই। সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে নগরীর বিভিন্ন ইস্যুর মধ্যে জলাবদ্ধতা ইস্যুটি ছিল অন্যতম। তবে এবার অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে- সিলেট সিটি করপোরেশন এই সমস্যা স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। করপোরেশন ইতোমধ্যে সমস্যাটির জন্য ১০ হাজার লোককে চিহ্নিত করেছে। এরা প্রভাবশালী। তার পরও এদের উচ্ছেদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান নব নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ‘‘কজন প্রভাবশালীর কারণে পুরো নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাতে পারেন না। যে কোনো মূল্যে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে ছড়াগুলো উদ্ধার করা হবেই,” বলেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট নগরীর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম নগর চিড়ে বহে যাওয়া ৯টি ‘ছড়া’ ও বেশ কিছু খাল। এগুলো অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় এখন ভয়াবহ সমস্যা ও সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালীরা ‘ছড়া’ খাল দখল করে নির্মাণ করেছেন পাকা ও আধা পাকা দালান-কোঠা।
তাই দখল হওয়া ছড়াগুলো উদ্ধারে বিশেষ অভিযানে নেমেছে সিলেট সিটি করপোরেশন, জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। তিনি জানান, এর আগেও একাধিকবার ছড়া উদ্ধারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান হয়েছে; কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে তা মাঝপথেই থেমে যায়। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে ছড়াগুলো উদ্ধারে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় সিসিক। এই অর্থ বরাদ্দের পর উদ্ধার অভিযানও শুরু হয়। তবে অভিযান মাঝপথে থেমে যাওয়ায় কোনো সুফল পায়নি নগরবাসী। নতুন করে এবার গত ৮ অক্টোবর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। এখন ছড়া ও খালের পানি কমছে। তাই আরো জোরালো গতিতে অভিযান চলবে।