রাজশাহীতে বেশি দামে কিনে বিপাকে চামড়া ব্যবসায়ীরা
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:১৩
রাজশাহী অঞ্চলে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে কোরবানির চামড়া কিনতে অসহায় হয়ে পড়েন সাধারণ চামড়া ব্যবসায়ীরা। তবে ট্যানারি শিল্পমালিক সমিতির বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এখন বিপাকে রয়েছেন। লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেকে। প্রয়োজনের তুলনায় চামড়া কিনতে পারেননি সাধারণ চামড়া ব্যবসায়ীরা।
এদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশীয় বাজারে লোকসানের মুখে থাকা কিছু অসাধু মৌসুমী ব্যবসায়ী রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে চামড়া জমা করছে। ওইসব চামড়া যাতে ভারতে পাচার না হতে পারে সেজন্য তারা সীমান্তে প্রশাসন ও বিজিবি’র কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের দিন সকাল থেকেই মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা মাঠ চষে বেড়িয়েছে। পাড়া-মহল্লায় ঢুকে বেশি দামে চামড়া কিনেছে তারা। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা পাত্তাই পায়নি। তারা প্রতিটি গরুর চামড়া গড়ে দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকায় কিনেছে। ছাগলের চামড়া কিনেছে প্রতিটি দুইশ থেকে তিনশ টাকা দামে। মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া কেনার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে বসা অস্থায়ী চামড়ার হাটে সেগুলো পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে তারা। তারা আড়তে এসে সর্বোচ্চ ১৩শ’ টাকা দাম শুনে হতাশ হয়েছে।
দুর্গাপুর উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া কিনেছেন।
এ ব্যাপারে পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, এবার ট্যানারি মালিক সমিতি ঢাকার বাইরে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দামে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু মৌসুমী ব্যবসায়ীরা সেই ঘোষণা উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমত চামড়া কিনেছেন।
রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান বলেন, কোরবানির ঈদে রাজশাহীতে প্রায় ৬০ হাজার গরু ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করা হয়। তবে শুক্রবার পর্যন্ত সাধারণ ব্যবসায়ীরা ২৫ হাজার গরু ও ৩০ হাজার ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কিনেছেন। বাকি চামড়া এখনো সংগ্রহের বাইরে রয়েছে। অতিরিক্ত দামের কারণে ওইসব চামড়া সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে পাচারের আশঙ্কা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজশাহী-৩৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কোরবানির ঈদের পর সীমান্তপথ দিয়ে কোনভাবেই যেন ভারতে চামড়া পাচার না হতে পারে সেজন্য বিজিবি সতর্ক রয়েছে। এবিষয়ে বিজিবি’র প্রতিটি বর্ডার আউট পোস্টে (বিওপি) সংবাদ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।