‘এটা আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ’ : মুশফিকুর রহিম

একে তো হোম কন্ডিশন, তার উপর প্রথম টেস্টে দারুণ পারফরম্যান্স। সবমিলিয়ে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও মানছেন এমনটাই। ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে জানিয়ে দিলেন, ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই তার দলের লক্ষ্য। উইকেটটা নতুন। সেজন্য একাদশে কী কোনো পরিবর্তন আসছে? মুশফিক: উইকেটটা নতুন হলেও এখানে আগেও আমরা ম্যাচ খেলেছি। হয়তো সেন্ট্রাল উইকেটে আগে কখনও ম্যাচ খেলা হয়নি। তবে আগের ম্যাচগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে এখান থেকে স্পিনাররা বেশি সুবিধা পায়। পেসাররা নতুন বলে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও পুরনো বলে রিভার্স সুইং পায়। আমরা আগের (চট্টগ্রাম টেস্টের) কম্বিনেশনেই খেলবো। কালকের উইকেট ও আবহাওয়া দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো। অতিরিক্ত পেসার খেলানোর কোনো চিন্তা আছে কি না? মুশফিক: উইকেটে যে খুব বেশি ঘাস আছে, সেটা কিন্তু না। আমরা আগামীকাল সকালটা দেখে স্কোয়াড চূড়ান্ত করবো। আবহাওয়া রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে টেস্টের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমরা সেভাবেই দল সাজাবো। কন্ডিশন অনুযায়ী বেস্ট কম্বিনেশন নিয়েই আমরা মাঠে নামবো। সবসময় দেখা যায় সিরিজের প্রথম টেস্ট ভাল করার পর দ্বিতীয় টেস্টে আর সেভাবে পারফরম্যান্স করতে পারে না বাংলাদেশ। এবার কি হবে? মুশফিক: আমি আগেও বলেছি, প্রথম টেস্ট থেকে আমাদের অর্জন অনেক কিছুই আছে। কিন্তু তারপরও ম্যাচটা ড্র হয়েছে। আমরা ম্যাচটা জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা হয়নি। আমি শুধু বলতে চাই, আমাদের জয়ের জন্য সেই একই ক্ষুধাই আছে। আর এই টেস্ট আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ। এই টেস্ট জিতলে আমরা সিরিজ জিতে যাবো। অনেকদিন পর টেস্ট খেলতে নেমে পর পর দুই টেস্টে ভাল করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে এখন খেলোয়াড়রা অনেক বেশি দায়িত্ববান। তারা প্রত্যেকেই ভাল খেলছে। তাই আমরা ভাল ফলাফলই আশা করছি। প্রথম টেস্টে যে ধরনের পারফরম্যান্স ছিল, সেদিক দিয়ে এই টেস্টে কি বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে থাকবে? মুশফিক: হ্যাঁ অবশ্যই। টেস্ট ড্র করার মধ্যে অনেক লেভেল থাকে। গত টেস্টে আমরা অনেক এগিয়েছিলাম। মোরালি আমরাই এগিয়ে আছি। খেলোয়াড়রা অনেক বেশি কনফিডেন্ট। প্রথম টেস্টে এমন না যে আমরা হারতে হারতে ড্র করেছি, আমরা ওদের ডমিনেট করেই ড্র করেছি। তাই সেদিক থেকে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবো। কিন্তু একই সাথে ওরাও শক্তিশালী দল। ওরাও কামব্যাকের সুযোগ খুঁজবে। ওদের ব্যাটসম্যানরা ভাল খেলছে। আমরা আমাদের নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি ঠিক করেছি। আশাকরি সবকিছু ঠিক থাকলে টেস্টটা আমাদের জন্য ভাল হবে। প্রথম টেস্ট ড্র করে নিউজিল্যান্ড সন্তুষ্ট ছিল। এটা নিয়ে আপনি কি কিছুটা বিস্মিত? মুশফিক: এটা সম্পূর্ণ ওদের ভাবনা। কিন্তু আমাদের দিক থেকে যদি বলি, তাহলে আমরা অবশ্যই হতাশ ছিলাম। কারণ, যেভাবে আমরা খেলেছি তাতে জয়টা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। জয়ের জন্য আমরা ভাল অবস্থায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত যতটুকু হয়েছে সেটা নিয়ে আমরা খুশি। আমরা ঢাকাতে আবার নতুন করে শুরু করতে চাই। মাথায় কি ড্র করার কোনো ভাবনা কাজ করছে? নিউজিল্যান্ডও কি ড্র করে সেফ থাকতে চাইবে না? মুশফিক: হয়তোবা চাইবে। টেস্টে কিন্তু সবাই জয়ের জন্যই নামে। এক বা দু’দিন পর আসল অবস্থাটা বোঝা যায়। বিশেষ করে আমাদের মতো কন্ডিশনে প্রথম ইনিংসটা অনেক বেশি ভাইটাল। পরেরদিকে বল স্পিন করে, লো হয়ে আসে বল। প্রথম ইনিংসটায় কে এগিয়ে থাকবে আর কে পিছিয়ে আছে সেটা নির্ধারণ করে দেয়। তাই আমরা চেষ্টা করব প্রথম এক দু’দিনের মধ্যেই ওদের উপর ডমিনেট করতে, যাতে আমরা ওদের উপর চাপ দিতে পারি। চট্টগ্রামে অনেকে পারফরম্যান্স করেছে। এই টেস্টে কি যারা সাধারণত পারফর্ম করে এসেছে যেমন তামিম ইকবাল কিংবা সাকিব আল হাসান, তারা কি জ্বলে উঠতে পারবে? মুশফিক: হ্যাঁ প্রথম টেস্টে অনেকে পারফর্ম করেছে। এখন ওদের (সাকিব-তামিম) জন্য বাড়তি যে সুবিধাটা হল যে তারা এখন চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারবে। ওরা বড় একটা সাপোর্ট পাবে। দলে চার-পাঁচজন খেলোয়াড় এখন ভাল খেলছে। এভাবে যদি সবসময় দলের সাত-আটজন পারফরমার থাকে তাহলে দলের জন্যই সুবিধা। মিরপুরে সাকিবের রেকর্ড অনেক ভাল, তামিমেরও। এই মাঠে তারা নিজেদের বেস্ট দেয়ার চেষ্টা করবে। আশাকরি তারা তাদের রেকর্ড বজায় রাখবে। আর আমাদের দল আরও ভাল করবে। প্রতিটি সিরিজেই প্রতিপক্ষের কোন একজন ব্যাটসম্যান দাঁড়িয়ে যান। এবার যেমন কেন উইলিয়ামসন দাঁড়িয়ে গেছেন। এমনটা কেন হচ্ছে? মুশফিক: প্রতিটি টেস্ট দলের এমন কিছু ব্যাটসম্যান থাকে যাদের ব্যাটিং গড় ৫০ এর উপরে। আর কেন উইলিয়ামস অনেক ভাল ব্যাটসম্যান। ও স্পিন অনেক ভাল খেলে। তাই ও ধারাবাহিকভাবে রান পাচ্ছে। একই সাথে আমাদেরও কিছু প্ল্যান আছে। উইকেট থেকে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করবো। যাতে তাড়াতাড়ি ওকে ফিরিয়ে দিতে পারি সেজন্য কাজ করবো।