স্বপ্ন নিয়ে আজ ঢাকা টেস্ট শুরু
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশ আগে কখনো জেতেনি, তা নয়। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে তারা। কিন্তু সে দুটিই ছিল তখনকার বাস্তবতায় খর্বশক্তির দল। ফলে পূর্ণশক্তির টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের আকাঙ্ক্ষাটা এখনও স্বপ্নই থেকে গেছে বাংলাদেশের। সেই স্বপ্ন পূরণেরই বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে আজ থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের শেষ টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট দাপট দেখিয়ে ড্র করার পর এই টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখাটা আর অলীক কোনো ব্যাপার মুশফিকুর রহিমদের জন্য নয়। গতকাল রবিবার ম্যাচপূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক দাবিও করেছেন, তারা জয় ছাড়া আর কিছু ভাবছেন না।
বৃষ্টি এসে বাগড়া না দিলে আজ সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হবে এই ঢাকা টেস্ট। খেলাটি সরাসরি সমপ্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও গাজী টেলিভিশন।
অবশ্য ঢাকা টেস্ট নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনা ওলট-পালট করে দিতে পারে এই অসময়ের বৃষ্টি। গতকালই ঢাকায় বৃষ্টি এসে মুখ দেখিয়ে গেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আজ ও আগামীকাল অর্থাত্ টেস্টের প্রথম দুই দিনই ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে!
তেমন কিছু হলে দৃশ্যত বাংলাদেশ দলই বেশি হতাশ হবে বলে মনে হচ্ছে। দু’ টেস্টের মাঝে লম্বা বিরতিতে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়, এমনকি অধিনায়কও বারবার বলতে চেয়েছেন, চট্টগ্রামে তাদের হাতের মুঠো থেকে ম্যাচ ফসকে গেছে। ঢাকায় সেটা হতে দিতে চান না। এই ম্যাচটা জিতে সিরিজ নিশ্চিত করার ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী খেলোয়াড়রা।
আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মূল কারণ অবশ্যই নিজেদের পারফরম্যান্স। দীর্ঘকাল বাদে টেস্ট খেলতে নেমেও বছর দেড়েক ধরে অভাবনীয় পারফরম্যান্স করছে বাংলাদেশ দল। প্রায় প্রতিটি টেস্টেই দলের এক বা একাধিক তরুণ খেলোয়াড় সিনিয়রদের সঙ্গে কাঁধ মেলাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের সদ্য সমাপ্ত টেস্টটা এ ক্ষেত্রে খুবই বড় বিজ্ঞাপন হতে পারে। বাংলাদেশের প্রধান তিন চালিকা শক্তি সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম এই টেস্টে খুব বড় কিছু করতে পারেননি। তারপরও দুই তরুণ মোমিনুল হক, সোহাগ গাজীর অভাবনীয় নৈপুণ্য ও মার্শাল আইয়ুবের অভিষেকেই প্রতিরোধ বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছিল।
সিনিয়ররা নিশ্চয়ই পারফরম করার জন্য মুখিয়ে থাকবেন। তবে তাদের ছাড়াই যখন তরুণরা রুখে দাঁড়ায়, সেটা অনেক বড় প্রাপ্তি হয় দলের জন্য।
বিপরীতে নিউজিল্যান্ড দলও যে খুব পেছন পায়ে থেকে খেলতে নামবে, সেটা আশাও করা ঠিক হবে না। যদিও আবহাওয়া, উইকেট, স্পিন বোলিং এবং বাংলাদেশের ফর্ম তাদের কিছুটা দুশ্চিন্তায় রেখেছে। তারপরও নিজেদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকায় আশা খুঁজে পেতে পারে সফরকারীরা। যতদূর জানা গেছে, উইকেট যথারীতি টার্নিং হবে অনুমান করেও একজন বাড়তি পেসার আজ খেলাতে পারে নিউজিল্যান্ড।
বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের কম্বিনেশন ভাঙার তেমন ইচ্ছে নেই। অবশ্য ইনজুরি বাধ্য করতে পারে একাদশে পরিবর্তন আনতে। প্রথম টেস্টে সামান্য চোট পাওয়া রবিউল ম্যাচে ফিট কি না, এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি ফিট না হলে অভিষেক হয়ে যেতে পারে তরুণ পেসার আল আমিনের।
তবে যা কিছুই হোক, বাংলাদেশ চাইবে অতীতের অনেকবারের মতো আরেকবার যে সুযোগটা পাওয়া গেছে, সেটা হেলায় না হারাতে। এখন দেখার অপেক্ষা, সুযোগটা বাংলাদেশ নিতে পারে কি না!