মিলনমেলা ভাঙ্গলো

‘মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষের সনে...।’ আগামী বছরের মার্চে দোল পূর্ণিমা উত্সবে আবারও মিলিত হবার আশা বুকে বেঁধে সাঁইজির ধাম ত্যাগ করতে শুরু করেছেন লালন ভক্তরা। গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে পাঁচদিনব্যাপী লালন স্মরণোত্-সবের। উত্সবের শেষ দিনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার সাধু-ভক্ত ও অনুসারী লালনের গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন দর্শক-শ্রোতাকে। তবে সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে লালন উত্সবে আসা সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি লালন মেলার স্টল মালিকদের। এবার ঈদ ও লালন স্মরণোত্সব একসঙ্গে হওয়ায় দর্শনার্থীর ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। গত পয়লা কার্তিক, ১৬ অক্টোবর মহামতি ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৩তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেঁউড়িয়া লালন মাজারে অনুষ্ঠিত হলো পাঁচদিন-ব্যাপী এই লালন স্মরণোত্সব। প্রতি বছরের মতো এবারও উত্সবে মেতে ওঠেন লালন ভক্ত, শিষ্য, অনুসারীসহ ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। তবে স্মরণোত্সব শেষ হলেও দূর-দূরান্তের কিছু সাধু সাঁইজির ধামে আরো কয়েকদিন ভক্তি প্রদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। উত্সব চলাকালে আখড়াবাড়ির মূল আঙিনার সামনে মরা কালী নদীর তীঁরে স্থায়ী লালন মঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আলোচনা সভা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয়েছে লালন সংগীত। উদ্বোধনী দিনে গান পরিবেশন করেন প্রখ্যাত লালন সংগীত শিল্পী ফরিদা পারভিন। এছাড়া লালন একাডেমির নিজস্ব সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীবৃন্দ পরিবেশন করেন সাঁইজির রেখে যাওয়া মরমী গান। লালন একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক বলেন, এ বছর মেলায় এত লোকের আগমন ঘটে, যা গত পাঁচ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। যেসব রাস্তা ছেঁউড়িয়ায় এসে মিশেছে, প্রতিদিন তার সবকটিতেই নেমেছিল মানুষের ঢল। সব বয়সের নারী-পুরুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় আখড়াবাড়ি। তবে সরকারিভাবে বানানো মূল মঞ্চে প্রকৃত বাউলদের খুব একটা দেখা মেলেনি। অবশ্য মূল মঞ্চে কে এলো আর না এলো, কে কতো বড় আর ছোটো এতে সাধুদের কোনো যায় আসেনি। তারা সব সময় সাঁইজির ধামে ধ্যানে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। খুব সকালে সাঁইফজ দরবারে ভক্তি পর্ব শেষে তারা চাল-জল নিয়ে স্নান করছেন কালী নদীতে। এরপর সেরে নিয়েছেন বাল্য সেবা (সকালের নাস্তা)। পাশাপাশি ভক্তদের নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আস্তানায় আসনে বসে সাঁইফজর গান গেয়ে আরাধনায় ব্যস্ত থেকেছেন তারা। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির ধামে প্রতিবছর দুটি উত্সব উদযাপন হয়। একটি মার্চ মাসে দোল উত্সব অপরটি পহেলা কার্তিক সাঁইজির তিরোধান দিবস। দু’টি উত্সবই ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।