গার্মেন্টস মালিকরা মজুরি সর্বনিম্ন সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিতে চান
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৩
গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ড আজ সোমবার আবার বৈঠকে বসছে। আজকের বৈঠকে ন্যূনতম মজুরি কত হতে পারে তা ঠিক হওয়ার কথা রয়েছে। মজুরি বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে ন্যূনতম মজুরির খসড়া ঠিক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
গতকাল রবিবার মালিকপক্ষের সংগঠন বিজিএমইএ’র মজুরি নির্ধারণে গঠিত কোর কমিটির একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে বৈঠক হয়নি। আজকের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের বৈঠকের পর আগামীকাল মঙ্গলবার ওই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি। গতকাল ‘ইত্তেফাক’কে তিনি জানিয়েছেন, ঈদের পরপরই বৈঠকের তারিখ পড়ায় কমিটির অনেক সদস্যের পক্ষে আসা সম্ভব হয়নি। কিন্তু গার্মেন্টস খাতে মজুরি নির্ধারণ নিয়ে বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে এই অজুহাতে সভা না হওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিএমইএ সূত্র ইত্তেফাককে জানিয়েছে, মালিকপক্ষ গার্মেন্টস খাতে ন্যূনতম মজুরি সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে সম্মত রয়েছেন। বিজিএমইএ’র দায়িত্বশীল ওই সূত্র জানায়, সাড়ে চার হাজার টাকা দিতে হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। তবুও আমরা সর্বোচ্চ এই পর্যন্ত ছাড় দিতে পারবো। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বরের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের বৈঠকে মালিক পক্ষ ন্যূনতম মজুরি বর্তমান ৩ হাজার টাকার সঙ্গে আরো ৬শ’ টাকা যোগ করে ৩ হাজার ৬শ’ টাকা দেয়ার প্রস্তাব করে। ওই প্রস্তাবের পর শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রক্রিয়ার জেরে বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক পক্ষের প্রস্তাব ছিল ৮ হাজার ১১৪ টাকা। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিক পক্ষও তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি বলে আভাস দিয়েছেন মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আমাদের হয়তো শেষ পর্যন্ত কিছু ছাড় দিতে হবে। কিন্তু তা যুক্তিপূর্ণ হতে হবে। মালিকপক্ষ যদি সাড়ে চার হাজার টাকা প্রস্তাব দিতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে গতবারের মত আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইব। উল্লেখ্য, গত ২০১০ সালে সর্বশেষ মজুরি নির্ধারণের সময় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া গার্মেন্টস খাতে সরাসরি উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত ৬০ থেকে ৭০ ভাগ শ্রমিকের (হেলপার, অপারেটর, সিনিয়র অপারেটর) যৌক্তিক উপায়ে না বাড়লে সমস্যা থেকেই যাবে। গত দফায় তাদের মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শুভঙ্করের ফাঁকি ছিল। তাদের মজুরি মাত্র ২০ ভাগ বেড়েছিল। তাদের মজুরি অন্তত ৮ হাজার টাকায় বাড়াতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান গ্রেড যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোরও সুপারিশ করেন তিনি।
মজুরি পর্যালোচনায় ভিয়েতনাম
ও কম্বোডিয়া সফর
বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় পর্যালোচনার জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গত ঈদের আগে দেশ দুটি সফর করেছে। এতে সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ভিয়েতনামে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২০ মার্কিন ডলার। এর সাথে ৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া রয়েছে। এছাড়া চিকিত্সা ভাতা ও রেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি জানান, সেখানে দুটি ডিমের দাম এক ডলার। অবশ্য দেশটিতে শ্রমিকদের জন্য সরকারের ভর্তুকি রয়েছে। আর কম্বোডিয়ার ৬শ’ কারখানার প্রায় সবগুলোরই বিদেশি বিনিয়োগে বিশেষত চীনের বিনিয়োগে পরিচালিত। এখানে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০ ডলার। আর এর সাথে ৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য সুবিধাদিও যুক্ত হয়। এই দেশেও জীবনযাত্রার ব্যয় বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। তবে দেশ দুটির প্রায় সব কারখানাই কর্মপরিবেশ সম্পন্ন (কমপ্লায়েন্ট)।
তিনি জানিয়েছেন, এসব বিষয় বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হবে।