এইচএসসি পরীক্ষার পীেরনীতি
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৩১
পীেরনীতি ১ম পত্র
মমিনুল ইসলাম মোল্লা, প্রভাষক পৌরনীতি
সামছুল হক কলেজ , কুমিল্লা
সৃৃজনশীল অংশ
উদ্দীপকটি মনোযোগ দিয়ে পড় এবং প্রশ্নগুলোর জবাব দাও শিল্পপতি আলী আশরাফ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এলাহাবাদে একটি কারখানা স্থাপন করেছেন। তাঁর প্নাস্টিক কারখানার বর্জ ্য পার্শ্ববর্তী নদীতে পড়ে। এ নদীটি ঢাকার প্রাণ । এর তীরে আরো অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। সবই নদীর পানিতে গিয়ে পড়ছে। ফলে নদীটির পানি দুষিত হচ্ছে। আগে এ নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত ; এখন এসবই স্বপ্ন। নদীর পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু পানি দূষণই নয় বিকট আওয়াজে এলাকার শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিলের সাথে সম্পৃক্ত “কুটির বিলে” আগে শুকনা মীেসুমে প্রচুর ধান হতো। এখন ফসলের উত্পাদন কমে গেছে। ফলে এ বিলকে কেন্দ্র করে জনবসতি ক্ষতির মুখে পড়েছে। শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ এলাকার পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলছে। মানুষের রোগ ব্যাধি বাড়ছে। এলাকাবাসী মনে করেন, আর দেরী নয়; এখনই পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকমন্ডলী ,সরকার, রাষ্ট্র এমনকি আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।
ক. প্রাকৃতিক পরিবেশ কী ?
খ. গ্রিন হাউজ এফেক্ট কী ?
গ. কলকারখানার কারণে কুটির বিলে কী ধরণের বিপর্যয় ঘটছে উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. এলাহাবাদের জনসাধারণের জীবনযাত্রায় পরিবর্তিত পরিবেশ কী ধরণের প্রভাব ফেলছে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ঃ ক. প্রকৃতির দ্বারা সৃষ্ট যে পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।
খ. পৃথিবীতে বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হলো শিল্প কারখানা থেকে বের হয়ে আসা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। এছাড়া মিথেন গ্যাস ও বায়ু দূষিত করছে। এর ফলে পৃথিবীর ওজন স্তর নষ্ট হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা একে বলেছেন “গ্রিন হাউজ এফেক্ট” । এর ফলে খরা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে; ঘূর্ণিঝড় , জলোচ্ছাস, সাইক্লোন ও সুনামির আশংকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ. উদ্দীপকে আলোচিত বুড়িগঙ্গা ও কুটির বিলে একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। দীর্ঘদিন ধরে শিল্প কারখানার বর্জ্য ঐ বিলে ফেলার ফলে পানি মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপরের আলোচনায় যে বিলটির বর্ণনা দেয়া হলো তা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট। এর সাথে প্রকৃতির দান হিসেবে মত্স্য সম্পদ এবং বিলের মাটির ধান উত্পাদন ক্ষমতা মনুষ্য সৃষ্টির কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা ইচ্ছে করলেও সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছিনা। তাই আমরা এ বিলটি এবং এর সাথে অন্যান্য প্রাকৃতিক সুবিধাকে সম্মিলিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে পারি। প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে কুটির বিল , পানি, পানির মত্স্য সম্পদ, বিলের মাটির ধান, উত্পাদনের ক্ষমতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ। এ অংশ মনুষ্য সৃষ্ট কারণে ধ্বংস হতে বসেছে। সুতরাং উদ্দীপকে ঐ প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে বলা যায়।
ঘ. কুটির বিলের মত্স্য সম্পদ এবং এর মাটিতে ধান উত্পাদনের সুবিধাকে কেন্দ্র করে এর চারপাশে মত্স্যজীবি এবং কৃষিজীবিদের আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। এরূপ বসতি গড়ে উঠার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, হাট-বাজার এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠা স্বাভাবিক। আরো গড়ে উঠেছে এখানকার মানুষের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক, পারস্পরিক প্রীতি, ও স্নেহের বন্ধন। এসব সম্ভাবনা সামাজিক পরিবেশেরই অংশ। অর্থাত্ কুটির বিলের চারপাশে মানুষগুলোর জীবন ব্যবস্থা পারিপার্শ্বিক সুবিধার সমন্বয়ে যে পরিবেশ, তা হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ। উপরের আলোচনা থেকে আমরা সামাজিক পরিবেশের স্বরূপ জেনেছি। আর সেই আলোচনায় দেখানো হয়েছে বিলের সুবিধাকে কেন্দ্র করে সমাজ গড়ে উঠেছে। এ সমাজে ঘর-বাড়ি , হাট-বাজার থেকে শুরু করে আরো বহু কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। যে প্রাকৃতিক পরিবেশের সুবিধার উপর ভিত্তি করে সমাজ গড়ে উঠেছে তা বিনষ্ট হলে ঐ সমাজে নিম্নরূপ পরিবর্তন ঘটতে পারে। পেশার পরিবর্তনঃ পূর্বে যারা বিলের পানিতে মত্স্য আহরণ করতো তারা জীবিকা হারিয়ে নতুন কোন পেশা গ্রহণ করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে। পানি দুষণঃ বিলের পানিতে শিল্প বর্জ্য ফেলার কারণে তা দূষিত হয়েছে। এ দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে সমাজের মানুষ ও প্রাণিজ সম্পদ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বায়ু দূষণঃ বিলের পানিতে শিল্প বর্জ্য পতিত হয়ে এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়ে বায়ু দূষণ করছে। তাতে মানব বসতি বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। উপরে বর্ণিত ব্যবস্থা সমাজ জীবনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নতুন ধ্যান-ধারণা সৃষ্টি, জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার পরিবর্তন হতে পারে। পরিশেষে আমরা বলতে পারি কুটির বিলের পরিবর্তিত অবস্থার কারণে সামাজিক পরিবেশে পরিবর্তন সূচিত হবে। এ পরিবর্তনে অনেক নেতিবাচক উপাদান যুক্ত হওয়ার আশংকা আছে।
অনুশীলন পাতা সম্পর্কে আপনার যেকোনো পরামর্শ জিজ্ঞাসা ও মতামত জানাতে
ফোন ০১৭১৪৭০৫৭২৭ অথবা ই-মেইল anushilon.ittefaq10@gmail.com