পানির নিচেও কাজ করবে ওয়াই-ফাই

তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ প্রযুক্তি হিসেবে ওয়াই-ফাই এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। তবে এখন পর্যন্ত ভূ-পৃষ্ঠেই সীমাবদ্ধ এই তারহীন প্রযুক্তি। পানির নিচেও কীভাবে একে কাজে লাগানো যায়, সেটি নিয়ে অনেকদিন থেকেই গবেষণা চলে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় এবারে সাফল্যের মুখ দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব বাফেলো, নিউইয়র্কের একদল গবেষক। ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন তারা এবং তাতে সাফল্যও লাভ করেছেন। ফলে গভীর সমুদ্রেও পানির নিচ দিয়ে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা যাবে। গবেষক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানির নিচ দিয়ে তথ্য স্থানান্তর, তথ্য শেয়ার করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করতে একটি মান প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যেই তারা কাজ করেছেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির নিচে প্রয়োজনীয় সেন্সর স্থাপন করে সুনামি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের নির্ভরশীল পূর্বাভাস দেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন তারা। ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর গবেষক দলের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিতে মূল ভূমিকা রাখবে শব্দ তরঙ্গ, যেখানে প্রচলিত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে মূলতই কাজ করে থাকে বেতার তরঙ্গ। ফলে বেতার তরঙ্গ পানির নিচে কাজ করলেও তাতে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। পানির নিচে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবশ্য এটিই প্রথম কোনো উদ্যোগ নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানই নিজ নিজ প্রয়োজনে পানির নিচে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) সুনামির পূর্বাভাস পাওয়ার জন্য অ্যাকোস্টিক তরঙ্গ ব্যবহার করে থাকে। এরকম বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির অবকাঠামোগত পার্থক্যের জন্য একেক ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ তথ্যগুলো অন্যদের সাথে সহজে শেয়ার করা যায় না। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে পানির নিচে যোগাযোগের একটি সাধারণ মান ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর গবেষকরা। তারা তাদের গবেষণায় ব্যবহার করেছেন ৪০ পাউন্ড ওজনের দুইটি সেন্সর। আর ল্যাপটপ ব্যবহার করেই এর মাধ্যমে তথ্য শেয়ার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।