ঘরোয়া সাফল্যের স্বীকৃতি পেলেন আল আমিন
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:০৯
শেষ পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্যের পুরস্কার পেলেন পেসার আল আমিন হোসেন।
অথচ বাংলাদেশের ৭০তম টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক পাওয়ার আগে প্রথমবারের মতো টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পেয়ে ক্রিকেট ও লেখাপড়ার মধ্যে কোন একটাকে বেছে নেয়ার দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছিলেন - কেমন লাগছে বুঝতে পারছেন না। কেননা খেলা না পড়াশোনা, কোনিট আগে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে।
জাতীয় দলের ডাক পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের এমন প্রতিক্রিয়া একটু বিস্ময়কর ছিল বৈকি! টেস্ট দলে ডাক পেয়েও তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না—ক্রিকেট ও পড়াশোনার মধ্যে কোন্টাকে বেছে নেবেন। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটেরই জয় হলো।
এই বয়সে জাতীয় দলে ডাক পেলে সবাই যে ধরনের উচ্ছ্বাস দেখান; আল আমিন ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা; অন্যদিকে জাতীয় দলের খেলার হাতছানি। সব মিলিয়ে দোটানার মধ্যে থাকা আল আমিন বেছে নিলেন ক্রিকেটকে। চলমান মিরপুর টেস্টে তার পারফরম্যান্স কি হবে সেটা আগেভাগে বলা কঠিন। তবে ক্যারিয়ারের দোলাচলে তার ক্ষেত্রে জয় হলো ক্রিকেটেরই।
গতকাল সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক হয় আল আমিন হোসেনের। ম্যাচ খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট না থাকায় আরেক পেসার রবিউল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
আগের দিন অনুশীলনের সময় থেকেই বলাবলি হচ্ছিল, অভিষেক হতে পারে আল-আমিনের। চট্টগ্রাম টেস্টে পাওয়া চোট কাটিয়ে ম্যাচ খেলার জন্য ফিট ছিলেন না রবিউল ইসলাম। ফলে খেলানো হতে পারে তরুণ পেসার আল আমিনকে। শেষ পর্যন্ত আগেরদিনের সম্ভাবনা এদিন বাস্তবতা হয়ে দেখা দিলে প্রথমবারের মতো সাদা পোশাকে মাঠে নামলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন ‘সেনসেশন’।
গত দুই মৌসুম ধরেই ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন আল-আমিন। তবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট তাকে ভালভাবে চিনেছে এই মৌসুমে। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই ১১ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে নিয়েছেন ১৮ উইকেট।
এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রাজশাহীর এই ছেলেটিকে। আগে দু’বার প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও দৃশ্যত মাশরাফি বিন মুর্তজার বদলি হিসেবেই চলে এলেন টেস্ট স্কোয়াডে। আর ঢাকা টেস্টে জায়গা করে নিলেন মূল একাদশে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের পর এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রমাণের পালা। আল আমিন আগেই বলে রেখেছিলেন, টেস্ট দলে সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবেন। সেই সুযোগ মেলার পর এখন তার নিজেকে মেলে ধরার পালা। আর সেটা করে দেখাতে পারলে আখেরে আল আমিনের পাশাপাশি লাভ হবে বাংলাদেশেরও।