রানা প্লাজা ধস মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলার তদন্তকাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আগামী মাসের শেষদিকে এই দুই মামলার চার্জশিট দিতে পারে বলে সিআইডি জানিয়েছে। তদন্ত শেষে দুই মামলায় আসামি হতে পারেন ২১ জন। এরই মধ্যে দুই মামলায় ৬শ’ জনের বেশি ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এ ঘটনায় তদন্তে যাতে কোন ধরনের ফাঁক ফোকর না থাকে এবং জড়িতরা যাতে পার না পেয়ে যায় সেসব যাচাই বাছাই করতেই তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সময় নিচ্ছেন বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র এএসপি বিজয় কৃষ্ণ কর বলেন, রানা প্লাজার মামলা দুইটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২১ জনকে। তদন্ত চলছে। আগামী মাসের শেষ দিকে মামলার তদন্ত শেষ হতে পারে। এতে সাক্ষী ও আসামির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে মনে করছেন। গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১২০ জন নিহত ও আহত হন ১১৪৭ জন। এদের মধ্যে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ৫ শতাধিক শ্রমিক। এ ঘটনায় সাভার থানায় এসআই ওয়ালী আশরাফ খান ও রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল আহম্মেদ বাদী হয়ে ইমারত আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক, গার্মেন্টস মালিক আমিনুল ইসলাম, ডেভিড মেয়র রেকো, আনিসুজ্জামান ও বজলুস সামাদকে আসামি করা হয়। পক্ষান্তরে ইমারত আইনে দায়ের করা মামলায় ভবন মালিক আব্দুল খালেক, সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক ৩ প্রকৌশলীকে আসামি করা হয়। এই দুই মামলা পরে তদন্তের জন্য সাভার থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। ২৮ এপ্রিল যশোরের বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। একদিন পর রাজধানীর মগবাজার থেকে সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গার্মেন্টস মালিকদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ডেভিড মেয়র রেকো ছাড়া অন্যরা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এই দুই মামলায় এসব আসামিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি সাভার পৌর মেয়র আলহাজ্ব রেফাত উল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীসহ মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য মতে ধামরাইয়ে রানাকে সঙ্গে নিয়ে তার মালিকানাধীন ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় মামলা হয়েছে। ঐ মামলার তদন্ত হচ্ছে আলাদাভাবে। সিআইডি’র একটি সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর ভয়াবহ এই ভবন ধসের ঘটনার দায়ের করা মামলা দুইটি’র তদন্ত কাজে যেন ফাঁক ফোকর না থাকে সেজন্য সিআইডি’র একটি বিশেষ তদন্ত সেল এই মামলা দুইটির তদন্তকাজে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে। এ পর্যন্ত এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ২১ জনের চেয়ে আরো ৬/৭ জন আসামি বেশি হতে পারেন বলে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।