নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ

আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনারদের বাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) সব নির্বাচন কমিশনারের বাসায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পুলিশের একটি দল সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর নিরাপত্তা বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও দিয়েছে কমিশনকে। ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, পুলিশ যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে তা বেশ ব্যয়বহুল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বাসাতেই ছয়টি ক্যামেরা লাগবে। সব মিলিয়ে পাঁচ নির্বাচন কমিশনারের বাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে লাগবে ৩০ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনের তহবিল থেকেই এ ব্যয় মেটানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনাররা সম্প্রতি বাসা থেকে দপ্তরে যাওয়া-আসার সময় পুলিশের নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। কিন্তু জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে তাদের এ চাহিদা পূরণ করা হয়নি। এমনকি কমিশনারদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যানদের ওয়াকিটকিও দেয়া হয়নি। বর্তমানে চার নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের একজন করে গানম্যান রয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নিরাপত্তা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কমিশন সচিবালয়ের নিরাপত্তায় কর্তব্যরত আট পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ১০ আনসার সদস্য। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০৬ সালে বিচারপতি এমএ আজিজের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সব কমিশনারের বাসাতেই গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সব নির্বাচন কমিশনারের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয় এবং সে ব্যবস্থা ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের কমিশনারদের জন্যও বহাল থাকে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিইসি ছাড়া অন্য নির্বাচন কমিশনারদের জন্য পুলিশ পাহারা কমিয়ে দেয়া হয়।