ভূঞাপুরে বাস টার্মিনালের অভাবে দুর্ভোগে যাত্রীরা

ভূঞাপুরে বাস টার্মিনাল না থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করায় পৌর এলাকায় প্রকট যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও এখন তা আর চোখে পড়ে না। ঈদে ঘরমুখী ও ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের সামনে ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়কের পাশে, ভূঞাপুর-গোবিন্দাসী সড়ক, ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজার সড়কের পাশে আইন অমান্য করে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। জানা যায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ভূঞাপুরের তত্কালীন দায়িত্বরত মেজর সিরাজ স্লুইস গেট সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গাটি বাস টার্মিনাল হিসাবে ব্যবহারের জন্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পরামর্শ দেন। এরপরই ঐ জায়গাটি বাস টার্মিনাল হিসাবে ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তা বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনাল না থাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, টেম্পু, ডিজেল চালিত স্যালো মেশিন দিয়ে তৈরি নছিমন রাস্তার উপর যত্রতত্র পার্কিং করা হয়। ফলে প্রতিনিয়তই ভূঞাপুর থেকে ঢাকা-ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর, ভূঞাপুর-তারাকান্দি ও ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু রুটে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রী ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বাস টার্মিনাল ছাড়াও যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য এখন পর্যন্ত কোন যাত্রী ছাউনি নেই এখানে। বিগত এরশাদ সরকারের আমলে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলেও প্রায় এক যুগ পূর্বে রাস্তা সমপ্রসারণের প্রয়োজনে তা ভেঙে ফেলা হয়। ফলে ভূঞাপুরের বাস যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ভূঞাপুরের একাধিক গাড়ি চালক বলেন, বাস টার্মিনাল না থাকায় বেআইনি জেনেও রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং করতে বাধ্য হচ্ছি। পার্কিংয়ের জন্য থানা পুলিশকে মাসোহারা দিতে হয়। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হেলালুজ্জামান সরকার বলেন, বাস টার্মিনাল ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়ে প্রশাসন থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।