বান্দরবানে ময়ূর রথযাত্রায় তরুণ-তরুণীদের ঢল
মিলন চক্রবর্তী, বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪২
মারমা সম্প্রদায়ের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সবে বান্দরবানে ময়ূর রথযাত্রায় তরুণ-তরুণীদের ঢল নামে। রবিবার রাতেও বিভিন্ন রঙের ফানুসের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল বান্দরবানে রাতের আকাশ। পাহাড়িদের জমকালো উত্সব দেখতে রাজবাড়ী মাঠসহ মারমা পল্লীগুলোতে ভীড় জমায় বান্দরবানে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকেরাও। মোমবাতি প্রজ্জলনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানোর পর রবিবার গভীররাতে ময়ূর আকৃতির রথটি সাঙ্গু নদীতে বিসর্জনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানমালা শেষ হলেও উত্সব চলবে পহেলা নভেম্বর পর্যন্ত। মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন জানায়, তিন মাস বর্ষাবাসের (উপোষ) থাকার পর পাহাড়ি বৌদ্ধ ধর্মালম্বী মারমা সম্প্রদায় ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) পালন করে প্রতি বছর। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, এমন বিশ্বাসে পূর্ণিমার এ তিথিতে আকাশে ফানুস উড়ানো হয়। ফানুস উড়িয়ে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস রাতের আকাশে ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। পাপমুক্তির আশায় পাহাড়িরা আশ্বিনী পূর্ণিমার তিথিতে আকাশে শত শত ফানুস উড়ায়। রবিবার রাতে রাজবাড়ী মাঠে বীর বাহাদুর এমপির আয়োজনে প্রায় দুই হাজার ফানুস আকাশে উড়ানো হয়। এছাড়া পুরাতন রাজবাড়ী মাঠ, উজানীপাড়া ও কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ক্যায়াংসহ বৌদ্ধপল্লী থেকে ফানুস উড়ানো হয়। বিভিন্ন রঙের ফানুসে রঙিন হয়েছিল বান্দরবানে রাতের আকাশ। কেন্দ্রীয় ক্যায়াং থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি ময়ূর আকৃতির রথের উপর বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে রথ টেনে টেনে শহর ঘুড়িয়ে সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়। এসময় রথযাত্রা দেখার জন্য রাস্তার দু’পাশে উপচেপড়া ভীড় জমে। বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী-পুরুষেরা মোমবাতি জ্বালিয়ে রথযাত্রায় শ্রদ্ধা জানান। তরুণ-তরুণীদের ঢল নামে ময়ূররথ বিসর্জন অনুষ্ঠানে। এদিকে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সবের মূল অনুষ্ঠানমালা রবিবার গভীররাতে রথ বিসজর্নের মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও উত্সব চলবে পহেলা নভেম্বর পর্যন্ত।